নিউজপোল ব্যুরো: রাজ্যে পালাবদলের পর, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পর এই প্রথম! মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ১৫ অগস্টের সরকারি অনুষ্ঠানে রেড রোডে জাতীয় পতাকা তুললেন শুভেন্দু অধিকারী। ৮০তম স্বাধীনতা দিবসে বাংলার সরকারি উদযাপনে তৈরি হল নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করলেন শুভেন্দু। উল্লেখযোগ্য ভাবে, দীর্ঘ সময় পর বাংলার কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে স্বাধীনতা দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে এমন নতুন রাজনৈতিক আবহ তৈরি হল।
কুচকাওয়াজে অংশ নেয় কলকাতা পুলিশ, রাজ্য পুলিশ, সীমান্ত রক্ষা বাহিনী (BSF) এবং ভারতীয় স্থল, জল ও নৌসেনার চৌকস জোয়ানরা। বর্ণাঢ্য প্যারেডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কলকাতা পুলিশের বিশেষ ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’-এর মার্চ পাস্ট। সাব-ইন্সপেক্টর শম্পা গুহের সুনিপুণ পরিচালনায় এই স্কোয়াড যখন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানায়, তখন গোটা এলাকা করতালি ও পুষ্পবৃষ্টিতে ভরে ওঠে। প্যারেড চলাকালীন আকাশপথে বিশেষ হেলিকপ্টার থেকে বর্ণাঢ্য পুষ্পবৃষ্টি অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
রেড রোডের মঞ্চ থেকে রাজ্যবাসীকে ‘জাতীয়তাবাদী অভিনন্দন’ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে বলেন, “আমাদের বাংলা ক্ষুদিরাম বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর মতো বীর বিপ্লবীদের পুণ্যভূমি। সমস্ত রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ ভুলে পশ্চিমবঙ্গকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের সরকারের প্রধানতম অগ্রাধিকার। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যকে ‘ভারত শ্রেষ্ঠ’ করে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে চলব।” ভাষণে কর্মসংস্থান তৈরি, নারীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক নগরায়নের একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেন তিনি।
এদিনের রেড রোডের প্যারেড প্রাঙ্গণে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের দর্শনীয় ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অঙ্গ হিসেবে রাজ্যজুড়ে অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে বিতরণ করা হয় মোট ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা। ঐতিহাসিক দিক থেকে নজরকাড়া তথ্য হলো, ২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পর দীর্ঘ দুই দশক কাটিয়ে এই প্রথম বাংলার কোনো মুখ্যমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে দূরদর্শনের মাধ্যমে সরাসরি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে জাতীয়তাবাদী বার্তা দিলেন। সব মিলিয়ে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রেড রোডের এই প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
