“নেতাজির অপমানের বদলা চাই, শুধু এফআইআরে হবে না”, নেতাজির অপমানের ক্ষোভে বিজেপি শিবিরে ঢুকে সোজা গ্রেফতারির হুঙ্কার কুণাল ঘোষের

breakingnews অপরাধ কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের সকালেই শাসকদলের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন নাটকের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। কট্টর মমতা-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সোজা গিয়ে হাজির হলেন বিদ্রোহী ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে! নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি চরম অবমাননা ও দলের ভাবমূর্তি নষ্টের অভিযোগ তুলে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে তৈরি হওয়া এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সব আয়োজন তখন প্রস্তুত ছিল। কিন্তু হঠাৎই নাটকীয় ভঙ্গিতে তপসিয়া ও মেট্রোপলিটনের সেই অনুষ্ঠানস্থলে কুণাল ঘোষ গাড়ি থেকে নামতেই কার্যত স্তম্ভিত ও হতভম্ব হয়ে পড়েন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর কর্মীরা।

কুণালের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, তৃণমূলের নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর অবস্থান এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষেই। তিনি মমতার নেতৃত্বে তৃণমূল চলার কথা তুলে ধরে জয়ধ্বনিও দেন। তবে কুণাল নিজে অবশ্য বিষয়টিকে অন্য ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি ওই এলাকার বিধায়ক। তাঁর দলের নাম ব্যবহার করে সেখানে পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে দেখতে পেয়ে তিনি দাঁড়িয়ে যান। অনুষ্ঠানটিতে থাকা কয়েকজন পরিচিত মুখকে দেখে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন বলেও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সেখানে গিয়ে আগে থেকে কোনও পরিকল্পনা ছিল না।

এদিকে তৃণমূলের অন্দরের বিভাজন নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্বাধীনতা দিবসের আবহে নেতাজির নাম ও মর্যাদা নিয়ে কোনও মন্তব্য বা রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ফলে কুণালের আচরণ এবং তাঁর বক্তব্যকে অনেকে সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও মিলিয়ে দেখছেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে বেলেঘাটা থেকে জয়ী হন কুণাল ঘোষ। রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। দল ও নেত্রীর পক্ষে নিয়মিত বক্তব্যও রেখেছেন তিনি। সেই আবহে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক কৌতূহল তৈরি করেছে।

সব মিলিয়ে, একটি স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি থেকে ফের সামনে এল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ, মমতার নেতৃত্ব নিয়ে অবস্থান এবং নেতাজিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক। কুণালের হঠাৎ উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোনও নতুন বার্তা দেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।