১০ হাজার টাকার বেশি রোজগার করলেই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা বাতিল! ! সব জল্পনা উড়িয়ে যোগ্যদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

breakingnews প্রযুক্তি রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো:  অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যের মহিলাদের জন্য একদিকে যেমন এল বড় স্বস্তির খবর, তেমনই কারা এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন, তাও স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্যতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন তিনি। আগের কিছু নিয়মে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও একটি বিষয় একেবারে পরিষ্কার—যে মহিলারা নিজে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি আয় করেন, তাঁরা আবেদন করলেও অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩ হাজার টাকা পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবেন না।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলা। তাই যাঁরা নিজের আয় থেকেই মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাঁদের প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়নি। অর্থাৎ, পরিবারের মোট আয় নয়, মহিলার নিজস্ব সরাসরি উপার্জনের বিষয়টিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পুরনো শর্তে ছাড় দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন যেসব বিষয় নিয়ে বহু মহিলার মনে প্রশ্ন ছিল, সেখানেই এবার কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেও এসেছে বড় ছাড়ের খবর। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনটি ঘর বিশিষ্ট বাড়ি থাকলেও শুধুমাত্র সেই কারণেই কোনও পরিবারকে অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বাদ দেওয়া হবে না। আবার জেলার পৌর এলাকায় বসবাসকারী যেসব পরিবারের ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি রয়েছে, সেই পরিবারের মহিলারাও এবার এই প্রকল্পের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন নিয়মে একটি বিষয় স্পষ্ট—সরকার একদিকে যোগ্য প্রাপকদের সংখ্যা বাড়াতে কিছু শর্ত শিথিল করছে, আবার অন্যদিকে আর্থিকভাবে তুলনামূলক স্বচ্ছল মহিলাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমারেখাও টানছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কার আবেদন শেষ পর্যন্ত অনুমোদন পাবে? তার উত্তর নির্ভর করবে সরকারি নিয়ম, তথ্য যাচাই এবং চূড়ান্ত যোগ্যতার উপর। তাই আবেদন করার আগে নিজের আয়, পারিবারিক তথ্য এবং প্রকল্পের শর্তগুলি ভালোভাবে দেখে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। নিজস্ব মাসিক আয় ₹১০ হাজারের বেশি হলে অন্নপূর্ণার ₹৩,০০০ মিলবে না। তবে দিব্যাঙ্গ ভাতা, PM-Kisan-এর সুবিধা, তিন ঘরের বাড়ি বা নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি থাকলেই আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকল্প থেকে বাদ পড়তে হবে না।