নিউজপোল ব্যুরো: নাইট ডিউটি করতে এসেছিলেন। কাজের মাঝেই হঠাৎ শৌচাগারে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও আর ফিরলেন না। সহকর্মীরা ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত দরজা ভাঙেন। ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বছর ৩০-এর এক নার্সকে। চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (NRS)-এর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি বুধবার রাতের। হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের অ্যান্টিন্যাটাল ওয়ার্ডের স্টাফ টয়লেট থেকেই ওই নার্সকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ওই রাতে তাঁর নাইট শিফটে ডিউটি ছিল। হাসপাতাল সূত্রে খবর, রাত ৮টা থেকে তাঁর ডিউটি শুরু হয়েছিল। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি শৌচাগারে যান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেলেও তিনি আর ওয়ার্ডে ফিরে আসেননি। সহকর্মীদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা শৌচাগারের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও উত্তর আসেনি। বার বার দরজায় ধাক্কা দেওয়ার পরও সাড়া না মেলায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত দু’জন দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। সেখানেই মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় ওই নার্সকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দ্রুত খবর দেওয়া হয় চিকিৎসকদের।
চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় এন্টালি থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে যায় ডিডি হোমিসাইড টিমও। পরে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর আসল কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে ওই নার্সের শরীরে কোনও স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেও কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। ফলে ঠিক কী কারণে মৃত্যু হল, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ।
প্রাথমিক ভাবে অ্যানাস্থেসিয়ার কোনও ওষুধ বা ইনজেকশনের অতিরিক্ত মাত্রা শরীরে গিয়েছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এটি এখনও তদন্তের বিষয়। কোনও ওষুধ কী ভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে শরীরে গিয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। পুলিশ হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছে। ওই রাতে কারা ডিউটিতে ছিলেন, নার্সটি কখন ওয়ার্ড থেকে বেরিয়েছিলেন এবং তার পর কী ঘটেছিল, সেই সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালের ভিতরের সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তের কাজে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
একজন তরুণ নার্সের এ ভাবে মৃত্যুতে হাসপাতাল চত্বরে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও খবর দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর পিছনে কোনও দুর্ঘটনা, ওষুধের প্রভাব নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সব দিক খোলা রেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
