নিউজপোল ব্যুরো: স্বাধীনতা দিবসের আগে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমের সঙ্গে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর যোগাযোগের সন্দেহ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এখনও তদন্তের আওতায় রয়েছে। STF সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে হাবড়ার চোংদা মোড় এলাকা থেকে রানা রউফকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর কাছ থেকে পাকিস্তানের একটি পাসপোর্ট এবং একটি ভোটার কার্ড পাওয়া গিয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোন ঘেঁটে বিভিন্ন দেশের একাধিক নম্বরের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ নিয়ে। STF-এর দাবি, ফোর্ট উইলিয়ামের ছবি, ভিডিও এবং ম্যাপ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি BSF-এর গতিবিধি, সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট এবং ভারতীয় রেলের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও তথ্য জোগাড় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এই তথ্য কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে বলে দাবি STF-এর। ধৃতের ফোনে পাকিস্তান ছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার কয়েকটি নম্বরের সন্ধান মিলেছে। ওই নম্বরগুলির সঙ্গে কথোপকথন এবং চ্যাট হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। তবে গ্রেফতারের আগে বেশ কিছু চ্যাট ও নম্বর মুছে ফেলা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। সেই ডেটা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে বিষয়টি ঘিরে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে। বারাসাত আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রসেনজিৎ রানা জানিয়েছেন, ১৫ অগস্টকে কেন্দ্র করে কোনও নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এমন কোনও পরিকল্পনার চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্তকারীদের আরও দাবি, হাবড়া থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে নেপালের কাঠমান্ডু যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল রানা রউফের। এই যাত্রাপথের পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতে পেশ করার পর ধৃতকে ১৪ দিনের STF হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এখন তাঁর মোবাইল, নথি, বিদেশি যোগাযোগ এবং গত কয়েক দিনের গতিবিধিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাধীনতা দিবসের আগে সীমান্ত এলাকার এই গ্রেফতারি ঘিরে তাই নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
