নিউজপোল ব্যুরো: “অনেক হয়েছে, আর নয়! এই ধরণের বেপরোয়া লোককে এবার কড়া সবক শেখানোর আসল সময় এসে গেছে।” বিধানসভার ভেতরে দাঁড়িয়ে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে চরম বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরপর ঘটে যাওয়া দুটি বিতর্কিত ঘটনার রেশ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ গলায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, রাজ্যে ক্ষমতার লাগাম এখন আর আগের মতো আলগা নেই। মুখে যা আসবে, তাই বলে পার পেয়ে যাওয়ার দিন এবার শেষ।
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করে বিধানসভায় বলেন, “আপনাকে আমি একটা কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, রাইটার্স বা নবান্নে এখন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বসে নেই। আপনি এতদিন একজন দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়েছিলেন, তাই মুখে যা এসেছে বেপরোয়াভাবে বলে গেছেন। কিন্তু এখন জমানা বদলেছে। আমি আপনাকে আজ এই হাউজে দাঁড়িয়ে বলে যাচ্ছি, আপনার এই ধমক, হুমকি আর লাগামছাড়া কথা আমি কোনো অবস্থাতেই বরদাস্ত করব না।” এখানেই শেষ নয়, হুমায়ুন কবীরের এই উসকানিমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই যে আইনি খাঁড়া নেমে এসেছে, তাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি নির্দেশ অমান্য ও আইন ভাঙার অপরাধে ইতিমধ্যেই রেজিনগর থানা এবং শক্তিপুর থানায় বিধায়কের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক হেভিওয়েট এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছে। আইন নিজের হাতে নেওয়ার মতো এত বড় ক্ষমতা যে কাউকেই দেওয়া হয়নি, তা বাকি সদস্যদের সামনেও পরিষ্কার করে দেন তিনি।
পর্দার আড়ালে থাকা আসল রহস্যের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী হুমায়ুন কবীরকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “আপনি কেন এই ধরণের নোংরা রাজনীতি করছেন, তার ভেতরের আসল কারণটা আমার খুব ভালো করেই জানা আছে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
