নিউজপোল ব্যুরো: প্রতিবাদের আড়ালে কলকাতার হৃদপিণ্ডে নামল চরম নৈরাজ্য ও গুন্ডামি! মধ্য কলকাতার ব্যস্ততম ডোরিনা ক্রসিংয়ে বিক্ষোভের নামে যা চলল, তা দেখে আঁতকে উঠেছেন শহরবাসী। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ডাকা মিছিলে শহরের অন্যতম প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ করার পর থেকেই শুরু হয় তাণ্ডব। অবস্থান বিক্ষোভের অছিলায় উসকানিমূলক আচরণ থেকে শুরু করে কর্তব্যে থাকা পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক হিংসাত্মক হামলা চালানো হয়। পুরো ধর্মতলা চত্বর নিমেষের মধ্যে এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
সবচেয়ে মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে পেশাগত দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে। সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ কভারেজ চলাকালীনই আন্দোলনকারীদের আক্রমণের নিশানা হন মাঠে থাকা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। খবরের সত্যতা তুলে ধরাই যেন চরম অপরাধ হয়ে দাঁড়াল! তাণ্ডবকারীরা কভারেজে ব্যস্ত সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে বেধড়ক মারধর চালায়। ছাড় পাননি নারী সাংবাদিকরাও; লাইভ চলাকালীনই অকথ্য হেনস্থার শিকার হতে হয় তাঁদের। মারধরের চোটে রক্তে ভেসে যান ক্যামেরাম্যান ও সাংবাদিকরা, গুরুতর আহত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই।
পুলিশের ওপর উসকানিমূলকভাবে বোতল ও জুতোর বৃষ্টি ছোঁড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের গায়ে জল ছিটিয়ে চরম অরাজকতা তৈরি করা হয়। বাধ্য হয়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং স্তব্ধ হয়ে যাওয়া সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউকে সচল করতে লাঠি উঁচিয়ে কড়া অ্যাকশনে নামতে হয় পুলিশ বাহিনীকে। একেই কি বলে প্রতিবাদ? খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এইভাবে সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করার ঘটনা তুলে ধরেছে আন্দোলনের পেছনের কুরুচিকর চেহারা। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এমন নগ্ন ও নারকীয় হামলার তীব্র প্রতিবাদে এখন ফুসছে গোটা শহর।
