STF সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে আদিত্য সিংকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত হামিম মণ্ডল এবং অর্পিতাকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরই তাঁর নাম সামনে আসে। এরপর তদন্তকারীরা আদিত্যের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ল্যাপটপ এবং কয়েকটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেন। সেগুলি পরীক্ষা করে তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, হামিমের সঙ্গে আদিত্যের সরাসরি যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, এক জন মন্ত্রীর পরিবারের ছবি ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে এনক্রিপটেড অ্যাপের মাধ্যমে হামিম ও অর্পিতার কাছে পাঠানো হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে এবং সমস্ত তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে হামিম মণ্ডলের পুরনো ঠিকানা ঘিরেও তদন্ত শুরু হয়েছে। হাওড়ার পিলখানায় একটি কারখানার খোঁজ পেয়েছে STF। বাইরে থেকে এটি একটি প্রিন্টিং ইউনিট হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে পোশাকের বারকোড, লেবেল, ট্যাগ এবং স্মার্ট আইডি কার্ড তৈরির কাজ চলত বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই ব্যবসার আড়ালে অন্য কোনও বেআইনি কার্যকলাপ চলত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।কারখানাটি থেকে উদ্ধার হওয়া নথি, কম্পিউটার এবং অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। হামিম কতদিন ধরে এই জায়গা ব্যবহার করছিল এবং এখান থেকে কোনও জঙ্গি নেটওয়ার্ক পরিচালিত হত কি না, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
STF জানিয়েছে, এই মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ এবং উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে চলেছে। তদন্তকারীদের মতে, আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। সেই কারণেই এই মামলায় প্রতিটি সূত্র অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
