নিউজপোল ব্যুরো: প্রেমিকের হাত ধরে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল ১৬ বছরের এক কিশোরী। কিন্তু সেই স্বপ্ন যে এত ভয়াবহ পরিণতি নেবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি সে। অভিযোগ, বাড়ি থেকে পালিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে কলকাতায় আসার পর ওই কিশোরীকে সোনাগাছিতে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। খবর পেয়েই দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করল কলকাতা পুলিশের বড়তলা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ ১০০ ডায়ালে একটি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, উত্তর ২৪ পরগনার এক নাবালিকাকে সোনাগাছিতে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে দ্রুত উদ্ধার করার আবেদন জানানো হয়। পরে চাইল্ড হেল্পলাইনেও ই-মেল করে একই অভিযোগ জানানো হয়। খবর পেয়েই সময় নষ্ট না করে তদন্তে নামে বড়তলা থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে সোনাগাছির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন পুলিশকর্মীরা। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটের ১৯ নম্বর বাড়ির একটি ঘরে নাবালিকার সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই তাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। ১০০ ডায়ালে ফোন করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধার হওয়া কিশোরীর পরিচয়ও নিশ্চিত করেন তদন্তকারীরা।
উদ্ধারের পর মহিলা পুলিশ আধিকারিকের কাছে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার কথা জানায় ওই কিশোরী। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, উত্তর ২৪ পরগনায় তার বাড়ি। বাবুল ওরফে সফিকুল মোল্লা নামে ২০ বছরের এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই সে বাড়ি ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসে। অভিযোগ, কলকাতায় আসার পর সফিকুল তাকে সোনাগাছির এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেয়। এর পরেই অভিযুক্তদের ধরতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বাবুল ওরফে সফিকুল মোল্লা এবং শাহরুখ ওরফে সাহারুল লস্কর নামে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃত শাহরুখের বাড়ি দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিট এলাকায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্য অভিযুক্ত সফিকুল উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের গারুলিয়ার বাসিন্দা।
পুলিশের দাবি, জেরায় দু’জনেই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে BNS-এর একাধিক ধারা, POCSO Act এবং Immoral Traffic (Prevention) Act, 1956-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে নাবালিকাকে কীভাবে কলকাতায় আনা হয়েছিল এবং এই ঘটনার পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
