Mamata Banerjee:কাঁচরাপাড়ায় মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, ইট-কাদা-চটি ছোড়ার অভিযোগ, নিশানায় শুভেন্দু!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:কাঁচরাপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনার পর রবিবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)! বীজপুরের রাস্তা দিয়ে তাঁর কনভয় যাওয়ার সময় একদল বিক্ষোভকারী গাড়ি ঘিরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে থাকে। অভিযোগ, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, ছেঁড়া চটি এবং ইট-পাথর ছোড়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তারক্ষীরা কার্যত মানববেষ্টনী তৈরি করে তাঁর গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে বার করে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন:Sumit Roy:দু’দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, ‘আশপাশেই ছিলাম’ বলে মুখ খুললেন সুমিত রায়!

রবিবারের এই সফরে মমতার সঙ্গে ছিলেন লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন। তাঁরাও বিক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য প্রশাসন এবং পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে তীব্র হয়েছে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক চাপানউতোর।

কাঁচরাপাড়ায় পৌঁছে মমতা সরাসরি নিশানা করেন রাজ্য সরকার এবং পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির ‘গুন্ডা’ ও ‘লুম্পেন’দের প্রশ্রয় দিচ্ছে পুলিশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, ‘‘নিরাপত্তা ভুলে যান। লুম্পেনদের প্রোটেকশন দিচ্ছে পুলিশ! বাংলা তো লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমরা কেস করব।’’

নিজের গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ তুলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বড় ইট গাড়িতে এসে পড়ায় আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মাথা ফেটে যেত। এখানে আমরা মরে যেতাম। পুলিশ বিজেপিকেই প্রোটেকশন দিচ্ছে।’’

একই ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর অভিযোগ, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছেন। মাফিয়াদের দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।’’ দোলা সেনও বিক্ষোভের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

যদিও গোটা ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিক্ষোভে কোনও বিজেপি কর্মী জড়িত ছিলেন না। মমতার গাড়িতে পাথর, কাদা বা চটি ছোড়ার ঘটনা সত্যি হলে তারও নিন্দা করেন তিনি। শমীকের বক্তব্য, ‘‘যদি কেউ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে পাথর, কাদা বা চপ্পল ছোড়ে, তবে বিজেপি তাদের সমর্থন করে না। এই ঘটনায় কোনও বিজেপি কর্মী জড়িত নন এবং আমরা চাই না যে রাজ্যের প্রাক্তন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এমন আচরণ করা হোক।’’

শমীকের আরও বক্তব্য, এমন ঘটনা ঘটলে তা গোটা রাজ্যের ভাবমূর্তির পক্ষেই অস্বস্তিকর। তাঁর দাবি, ঘটনা সত্যি হলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অধীনস্থ পুলিশকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মমতার কাঁচরাপাড়া সফরের নেপথ্যে রয়েছে পুলিশি হেফাজতে বিরজু কেওটের মৃত্যুর ঘটনা। তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে হালিশহর থানার পুলিশ কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেফতার করেছিল। শুক্রবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরদিনই তাঁর পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর খবর সামনে আসে।

মৃতের স্ত্রী তথা কাঁচরাপাড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেনি শর্মা কেওটের অভিযোগ, লকআপের ভিতরে পুলিশের মারধরেই তাঁর স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রবিবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে মমতা অভিযোগ করেন, ‘‘এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে আর কিছু নেই।’’ তাঁর আরও দাবি, মৃতের পরিবারকে বিজেপির তরফে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

অন্য দিকে, মমতার এই সফরকে ঘিরেও পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বীজপুরের বিজেপি বিধায়ক সুদীপ্ত দাসের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতের পরিবারকে পাশে থাকার অছিলায় রাজনৈতিক প্রচারের সুযোগ খুঁজছেন। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘শকুন যেমন লাশ খোঁজে, উনিও খোঁজেন পশ্চিমবঙ্গের কোনও মৃত্যু নিয়ে কী ভাবে সংবাদমাধ্যমে থাকা যায়।’’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মৃতের পরিবারের পাশে বিজেপি রয়েছে এবং লকআপে মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতেও তারা প্রস্তুত।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

ফলে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাঁচরাপাড়ায় রবিবারের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফর কার্যত পরিণত হয় রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন মঞ্চে। এক দিকে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল, অন্য দিকে মমতার সফরকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে পাল্টা আক্রমণ করছে বিজেপি। আর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও এক ধাপ বাড়ল।