নিউজ পোল ব্যুরো:আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দু’বছর পূর্তিতে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নিহত চিকিৎসকের মা রত্না দেবীর লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে গোটা ঘটনার পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি, নির্যাতিতার দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে কথিত অনিয়ম ও আইনি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রাজ্য পুলিশের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় পৃথক মামলা রুজু করে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রবিবার নির্যাতিতাকে স্মরণে আয়োজিত কর্মসূচি থেকেই এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:Mamata Banerjee:কাঁচরাপাড়ায় মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, ইট-কাদা-চটি ছোড়ার অভিযোগ, নিশানায় শুভেন্দু!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) দাবি, ১৯৫২ সালের ‘স্পেশাল কমিশন অ্যাক্ট’-এর আওতায় আরজি কর-কাণ্ডের পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। নিহত চিকিৎসকের মায়ের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নবান্নে মুখ্যসচিব এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রশাসনিক আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “মাননীয়া রত্না দেবী নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পুনর্তদন্তের আর্জি জানিয়ে আমাকে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যসচিব ও বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৫২ সালের বিশেষ কমিশন আইনের আওতায় পুনর্তদন্তের ঘোষণা করছি।”
বর্তমানে আদালতের নির্দেশে সিবিআই তিনটি পৃথক বিষয়কে কেন্দ্র করে তদন্ত চালাচ্ছে—তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুন, ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালে সংঘটিত পরিকল্পিত ভাঙচুর এবং হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই তিনটি তদন্তের ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকলেও রাজ্য প্রশাসনের এক্তিয়ারভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদন্তের আওতার বাইরে রয়ে গিয়েছে।
সেই বিষয়টি হল, নির্যাতিতার দেহ সৎকারের সময় কথিত অনিয়ম। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে তরুণী চিকিৎসকের দেহ সৎকারের প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর বিধিভঙ্গ হয়েছিল। তাঁর দাবি, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী মৃতার দেহ সৎকারের ক্রম ছিল তৃতীয়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই ক্রম পরিবর্তন করে তাঁকে প্রথমে সৎকার করা হয়। একইসঙ্গে শ্মশানের নির্ধারিত খরচ পরিবারের তরফে প্রদান করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এখানেই শেষ নয়। মৃতার পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর দাবি, ঘটনাটিকে নিছক প্রশাসনিক গাফিলতি হিসেবে দেখলে চলবে না। এর পিছনে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখার্জির নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। রবিবারের স্মরণসভায় উপস্থিত ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে মঞ্চ থেকেই বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, শ্মশানে সৎকার-সংক্রান্ত এই অভিযোগগুলি সিবিআইয়ের চলমান তদন্তের আওতায় না থাকায় রাজ্য পুলিশ নিজেদের এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে পৃথকভাবে তদন্ত করতে পারবে। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এদিন নির্যাতিতাকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা অভয়া বোনকে ভুলিনি। রাজ্যবাসী আমাদের জয়ী করেছেন তাঁর ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনার জন্য। প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যে দাঁড়িয়েও আমি আবার বলছি—আমি কমিটেড, আমি কমিটেড, আমি কমিটেড। বোনের বিচারের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।”
আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়া এবং ঘটনাপ্রবাহের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত। তার মধ্যেই নিহত চিকিৎসকের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পুনর্তদন্তের ঘোষণা এবং দেহ সৎকারে কথিত অনিয়ম নিয়ে পৃথক এফআইআরের নির্দেশ নতুন করে ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
