নিউজপোল ব্যুরো: আবাসন সোসাইটিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজে যোগ দেওয়ার মাত্র চার দিন। এর মধ্যেই এক মহিলা ভাড়াটিয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল সেই নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গুজরাতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার অভিযুক্ত নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে নিয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধেও গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের অতীত যাচাই বা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ না করেই তাকে কাজে রাখা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি শনিবার গভীর রাতে। অভিযোগ, ওই মহিলা আবাসনের ছাদে হাঁটতে গেলে সেখানে নিরাপত্তারক্ষী ধরম সিং তাঁর উপর হামলা চালায়। অভিযোগ, মহিলাকে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করার পর যৌন নির্যাতন করা হয়। এরপর তাঁকে ছাদে আটকে রেখে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হতেই আবাসন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়। ফুটেজে অভিযুক্তকে লিফ্ট এবং সিঁড়ি ব্যবহার করে ছাদের দিকে যেতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয় অভিযুক্ত। এরপর তাকে খুঁজতে পুলিশ, স্থানীয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ এবং অন্যান্য আধিকারিকদের নিয়ে মোট ১০টি দল তৈরি করা হয়।
রাতভর তল্লাশি এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার পর শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে সাফল্য পায় পুলিশ। সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে হেবাতপুর এলাকা থেকে ধরম সিংকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের হারদোই জেলার বাসিন্দা। এর আগে আমদাবাদের বিভিন্ন সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেছে সে। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, যে নিরাপত্তা সংস্থা ধরম সিংকে নিয়োগ করেছিল, তারা তার অতীত বা ব্যাকগ্রাউন্ড যথাযথভাবে যাচাই করেনি। এমনকি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিক।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধর্ষণ সংক্রান্ত ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার জায়গায় ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির দল গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি অভিযোগকারিণী এবং অভিযুক্তের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে DNA-ভিত্তিক ফরেন্সিক পরীক্ষাও করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
