নিউজপোল ব্যুরো: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ের মাঝেই এবার উচ্চ আদালতের নজর তাঁর আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের ওপর। শালবনির জমি বিতর্ক এবং ডেবরায় চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার একাধিক মামলায় সিআইডি-র ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর, আজ মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে সুমিতের দায়ের করা ৪টি পৃথক মামলার জরুরি শুনানি হতে পারে।
সোমবারই সুমিতের আইনজীবী হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, মঙ্গলবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল মামলার শুনানির সঙ্গেই যেন তাঁর চার এফআইআর (FIR) সংক্রান্ত আবেদনের শুনানি গ্রহণ করা হয়। আইনজীবীর দাবি, সুপ্রিম কোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পাওয়ার পরও বিভিন্ন পুরনো ও নতুন অভিযোগে তাঁর মক্কেলকে লাগাতার ডেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ভবানী ভবনে সিআইডি-র জেরার গতিবেগও তুঙ্গে। শনি ও রবিবার শালবনিতে জমি জালিয়াতির অভিযোগে টানা ১৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর, সোমবার ফের সকালে সিআইডি সদর দফতরে ডেকে পাঠানো হয় সুমিতকে। তবে এবার মামলা ছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা থানায় দায়ের হওয়া শিক্ষাও খাদ্য দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার ঘটনা। সকাল ১০টা ৪৪ মিনিটে ভবানী ভবনে ঢোকার পর প্রায় ৮ ঘণ্টা চলে সিআইডি আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, চাকরির নামে মোট কত টাকা হাতবদল হয়েছে এবং সেই টাকার পৌঁছানো পথ কোথায়—এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। জবানবন্দির পুরো পর্বটির ভিডিও রেকর্ডিংও করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৭টা নাগাদ তিনি বেরোলেও তাঁর বয়ান খতিয়ে দেখে আবারও তাঁকে তলব করা হতে পারে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগকে শুরু থেকেই ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে আসছেন সুমিত রায়। আজ হাইকোর্টে এই জোড়া মামলার আইনি লড়াই কোন দিকে বাঁক নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।
