নিউজপোল ব্যুরো: বিজেপি, ফরোয়ার্ড ব্লক এবং তৃণমূলের পথ অতিক্রম করে এবার সম্পূর্ণ নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সূচনা করতে চলেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাতি চন্দ্র বোস। ৪ মাসের মধ্যেই তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে এবার নিজের দল গঠনের পথে পা বাড়ালেন তিনি। জানা গেছে, নেতাজির অমলিন আদর্শ এবং ভাবধারাকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই আত্মপ্রকাশ ঘটাচ্ছে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। চন্দ্র বোস নিজে এই নবগঠিত দলের প্রধান মেন্টর বা নির্দেশকের ভূমিকায় থাকবেন। শুধু তাই নয়, নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আজকের ‘জেন-জি’ (Gen-Z) অর্থাৎ তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গেই নিয়েই আন্দোলনের মূল ভিত তৈরি করতে চাইছেন তিনি।
এই নতুন দলের যাত্রার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে ২১ অক্টোবর তারিখটিকে। এর নেপথ্যে রয়েছে এক ঐতিহাসিক কারণ। ১৯৪৩ সালের এই ২১ অক্টোবর তারিখেই সিঙ্গাপুরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রথম ‘আজাদ হিন্দ সরকার’ গঠনের ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছিলেন। সেই মহান ঐতিহ্য স্মরণ করেই আগামী ২১ অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করবে ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত কটক শহর থেকেই এই রাজনৈতিক দলের সূচনা ও প্রথম কর্মসূচি পালিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চন্দ্র বোসের পাশাপাশি দেশের একাধিক নেতাজি-গবেষক, নেতাজিপ্রেমী গোষ্ঠী এবং পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ ও গুজরাটের বিপুল সংখ্যক তরুণ শুভাকাঙ্ক্ষী এই উদ্যোগে তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চন্দ্র বোসের রাজনৈতিক দলবদলের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ২০১৬ সালে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধানসভা ও পরে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৭ বছর বিজেপিতে থাকার পর ছাব্বিশের নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপিতে থাকাকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ আখ্যা দিয়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই ছাড়েন তৃণমূলও। নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন দলের নাম নথিভুক্তকরণ ও প্রতীক পাওয়ার প্রাথমিক প্রশাসনিক আইনি কাজ শেষ হলেই তরুণ সমাজকে সাথে নিয়ে পুরোদমে ময়দানে নামবে এই নতুন দল।
