ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত সাইবার চোরদের ডেরা ভাঙল পুলিশ, দুর্গাপুরের বিভিন্ন হোটেল ও বাড়িতে পুলিশের আচমকা হানা, গ্রেফতার ১০ জন হ্যাকার

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর আর আসানসোল কি তবে ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত ‘জামতাড়া গ্যাং’-এর নতুন নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠছে? আসানসোলের নজিরবিহীন ড্রোন অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দুর্গাপুরের বুক ঘেঁষে ধরা পড়ল সাইবার জালিয়াতির এক সুবিশাল নেটওয়ার্ক! কোকওভেন, কাদারোড থেকে শুরু করে নিউ টাউনশিপ— শহরের একাধিক অলিগলিতে থাবা বসিয়ে পুলিশ এক এক করে হাতেনাতে পাকড়াও করল জামতাড়া গ্যাংয়ের ১০ জন দুর্ধর্ষ সাইবার প্রতারককে। এদের ডেরা থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অপরাধে ব্যবহৃত ভূরি ভূরি পেনড্রাইভ, এটিএম কার্ড, রাউটার ও গোপন হার্ডডিস্ক।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই আন্তঃরাজ্য সাইবার সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ে ফেলতে দিনভর চিরুনি তল্লাশি চালায় পুলিশ। প্রথম বড় সাফল্য আসে কোকওভেন থানা এলাকার একটি হোটেল থেকে। সেখানে গোপন ডেরা বানিয়ে থাকা ঝাড়খণ্ডের ৪ বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের আদালতে পেশ করার পরই বিকেলে দুর্গাপুর থানার কাদারোড এলাকায় আচমকা অভিযান চালিয়ে ধরা হয় আরও ৫ জনকে, যাদের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা। শেষমেশ নিউ টাউনশিপ এলাকা থেকে আরও এক চতুর অপরাধীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে এখন জালিয়াতির ডিজিটাল নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

দুর্গাপুরের এই মেগা ক্র্যাকডাউনের ঠিক আগেই আসানসোলের নিয়ামতপুরের হরিজনপাড়ায় দেখা গিয়েছিল এক হাড়হিম দৃশ্য। সেখানে বিলাসবহুল ভিলায় সিসিটিভি ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় সেন্সর গেট বসিয়ে সুকৌশলে নিজেদের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছিল এই জামতাড়া গ্যাং। ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকতে বাড়িগুলির চারপাশে কড়া নজরদারি রাখা হলেও, র্যাফ এবং ড্রোন উড়িয়ে প্রায় ১০ ঘণ্টার এক ঐতিহাসিক মেগা অভিযান চালায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। সেই অভিযানেই ৩৫টি বহুমূল্য স্মার্টফোন, ৪৫টি এটিএম কার্ড, ওয়াইফাই রাউটার ও নগদ ৩ লক্ষ টাকা সমেত জঘন্য এই সাইবার চক্রের ১১ জন সদস্যকে জালে তোলা হয়েছিল।

ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের চোখ এড়াতে সীমান্ত পেরিয়ে এখন পশ্চিমবঙ্গীয় শিল্পাঞ্চলকে নিশানা করছে এই জালিয়াতেরা। তবে আসানসোলের পর দুর্গাপুরে পুলিশের এই ব্যাক-টু-ব্যাক অল-আউট সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে বড়সড় ধাক্কা খেল গ্যাংটি। পুলিশ মনে করছে, ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হওয়া কোটি কোটি টাকার লেনদেনের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচিত হবে।