অভয়ার দেহ তড়িঘড়ি দাহ কেন? মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন FIR ,নির্মল ঘোষ-সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরপরই ফের নতুন করে খুলে গেল বহুল চর্চিত আরজি কর কাণ্ডের ফাইল। নিহত তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর দিনই সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি রাজ্য স্তরে সম্পূর্ণ পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারের সেই সিদ্ধান্তের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই, অর্থাৎ সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে লিখিত অভিযোগ জানান নির্যাতিতার পিতা। নতুন এই অভিযোগে সরাসরি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট বা মুছে ফেলার মতো হাড়হিম করা একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে আয়োজিত স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং নির্যাতিতার মা-বাবা। সভা থেকেই মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠিত হবে, যারা এই ষড়যুদ্ধে নতুন করে অনুসন্ধান চালাবে। ঘটনার দিন কেন অত দ্রুত দেহ দাহ করার তাড়াহুড়ো দেখা গিয়েছিল, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি সরাসরি নাম নিয়ে জানান যে, শ্মশানঘাটে সৎকার প্রক্রিয়ার সময় পানিহাটির তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা অত্যন্ত সন্দেহজনক ছিল। তাঁদের নির্দেশেই কি তথ্য গোপনের চক্রান্ত হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখবে সিট।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দাহকার্যের রেজিস্ট্রারের সিরিয়াল নম্বর ৩-এ থাকলেও, তা রাতারাতি পাল্টে ১ নম্বর বানিয়ে তড়িঘড়ি সৎকার করা হয়। দাহ করার জন্য নির্ধারিত সরকারি কোনো খরচই পরিবারের থেকে নেওয়া হয়নি, এমনকি মৃতার পরিবারের কোনো নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষরও সেখানে ছিল না। এই সমস্ত বেআইনি কাজ কোনো বড় প্রভাবশালীদের হাত ছাড়া হওয়া অসম্ভব। ইতিমধ্যেই কর্তব্যে চরম গাফিলতির জন্য পুলিশের তিন শীর্ষ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।