নিউজপোল ব্যুরো: টানা বৃষ্টির জেরে কলকাতায় ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ভোরের অন্ধকার কাটার আগেই জোড়াবাগানের একটি পুরনো তিনতলা বাড়ির একাংশ আচমকা ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন এক বৃদ্ধা। তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃতার নাম উর্মিলা সাউ, বয়স ৬০ বছরের বেশি বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ভোরের দিকে ঘটে। খবর পেয়েই জোড়াবাগান থানার পুলিশ, কলকাতা পুলিশের অন্যান্য কর্মী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং এনডিআরএফের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। শুরু হয় দ্রুত উদ্ধারকাজ। বাড়ির ভেঙে পড়া অংশের মধ্যে আরও কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে জানা যায়, মোট ১৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল। একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই তাঁদের দাবি। টানা বৃষ্টিতে দুর্বল হয়ে পড়া পুরনো বাড়ির অংশ শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে বলেও প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর বাড়িটির বাকি অংশ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, বিপজ্জনক অংশগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ভেঙে ফেলার কাজও করা হতে পারে। উল্লেখ্য, গতকালই উত্তর হাওড়ার বাবুডাঙ্গা এলাকায় একটি প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন তিনতলা বাড়ির ভিতরের অংশ ভেঙে পড়েছিল। সেখানে বাড়ির এক বৃদ্ধ মালিক আটকে পড়েন। পরে দমকলকর্মীরা জানলার লোহার রড কেটে তাঁকে উদ্ধার করেন। কিছুদিন আগেই ভবানীপুরের একটি পুরনো পাঠাগারের অংশও ধসে পড়েছিল।
এক দিনের মধ্যে একাধিক পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় শহর ও শহরতলির বিপজ্জনক বাড়িগুলি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে। বর্ষার বৃষ্টিতে পুরনো এবং দুর্বল বাড়িগুলি কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বাসিন্দাদের মধ্যে। জোড়াবাগানের ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে বাড়িটিকে নিয়ে আগে থেকেই বিপদের আশঙ্কা ছিল বলে পরিবারের দাবি, সেখানে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে কি এই মৃত্যু এড়ানো যেত? তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
