নিউজপোল ব্যুরো: রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে এবার জোরালো তদন্তের দাবি উঠল। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই মৃত্যুর পিছনে এমন কোনও কারণ রয়েছে কি না, যা এখনও সামনে আসেনি, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
চিঠিতে ঋতব্রত বিশেষ করে তারাপীঠ–রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা টিআরডিএ-র টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও চাপ বা হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল কি না, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়েছেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন পর্ষদে টেন্ডার দেওয়া নিয়েও অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। এদিকে, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্তে সোমবার তাঁর বাড়িতে পৌঁছয় ফরেন্সিক দল। রবিবার নিজের বাড়ির পাশের কার্যালয়ে তাঁকে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করছেন বলে জানা গিয়েছে।
সোমবার প্রয়াত নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা এবং সাঁইথিয়ার বিধায়ক কৃষ্ণকান্ত সাহা। তাঁরা আশিসের ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেন। পরে ধ্রুব সাহা জানান, পরিবারের পাশে থাকা এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেওয়াই তাঁদের উদ্দেশ্য। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর আগে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ জুলাই বিদ্রোহী শিবিরের একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় এমন ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ঋতব্রত।
শুধু তাই নয়, একটি চিঠির হাতের লেখা এবং আশিসের দেহ উদ্ধারের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, ফরেন্সিক পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।অন্যদিকে, কালীঘাট-তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল এবং সেই কারণেও তিনি মানসিক চাপে থাকতে পারেন।এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু কি শুধুই আত্মহত্যা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে আরও কোনও অজানা ঘটনা? ফরেন্সিক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টই হয়তো আগামী দিনে সেই রহস্যের জট খুলবে।
