নিউজ পোল ব্যুরো:আচমকাই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। আর সেই সময়েই অনুব্রতের প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জমির দলিল ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একদা অনুব্রতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সায়গলের গ্রেফতারির পরই বীরভূমের ‘কেষ্ট মণ্ডল’-এর মুখে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নয়া জল্পনা।
আরও পড়ুন:Nirmal Ghosh:মণীশ শুক্লা হত্যা মামলায় নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে ফের এফআইআর!
রবিবার রামপুরহাটে প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। সেখানেই আশিসবাবুকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘নোংরামি’ এবং শক্তিগড়ের ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন তিনি। অনুব্রতের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, আমি পাশে রয়েছি। আমি দেখব।” একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন, তা বাস্তবায়িত করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমনকি ঘটনায় এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান অনুব্রত।
তারাপীঠ-রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান থাকাকালীন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগও কার্যত খারিজ করে দেন অনুব্রত। তাঁর দাবি, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; তাঁকে ঘিরে ‘গল্প সাজানো’ হয়েছিল।
তবে অনুব্রতের বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েই এখন বেশি চর্চা। একদিকে প্রাক্তন দেহরক্ষী সায়গল হোসেনের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পত্তির হদিশ এবং গ্রেফতারি, অন্যদিকে অনুব্রতের মুখে বারবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা—দুইয়ের সমাপতন ঘিরে প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
তাহলে কি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে নতুন কোনও সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন অনুব্রত? তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে কি গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন বীরভূমের একদা দাপুটে নেতা? নাকি সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে তাঁর মন্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা উচিত—উঠছে সেই প্রশ্নও।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এরই মধ্যে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির হদিশ এবং সেই তদন্তের সূত্রে অনুব্রতের প্রাক্তন দেহরক্ষীর নাম জড়িয়ে পড়ার পর কি কোনও আইনি বা রাজনৈতিক চাপ থেকে নিজেদের দূরে রাখতেই অনুব্রত বারবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় সরব হচ্ছেন? আপাতত উত্তর অমিল। তবে কেষ্ট মণ্ডলের সাম্প্রতিক মন্তব্য যে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা উসকে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
