তারাপীঠের পর এবার জতুগৃহ খাস কলকাতা! নিউ মার্কেটের জতুগৃহে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শিউরে ওঠা সত্য সামনে

breakingnews কলকাতা রাজ্য

খাস কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সামনে আসছে একের পর এক শিউরে ওঠার মতো তথ্য। আগুন লাগার সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকা চিৎকার আর ধোঁয়ার গন্ধে ঘুম ভাঙলেও, অনেকেই আর সহজে বেরিয়ে আসতে পারেননি। অভিযোগ ও প্রাথমিক দমকল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হোটেলের ভিতরের সরু পথ, জটিল গলিপথ, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব এবং মূল বেরোনোর পথ বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আর সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে—আগুনের শিখার চেয়েও কি ধোঁয়া ও আটকে পড়ার পরিস্থিতিই হয়ে উঠল সবচেয়ে বড় বিপদ? ঘটনাটি ঘটে রাত প্রায় পৌনে ২টো নাগাদ। সেই সময় হোটেলের অধিকাংশ আবাসিক ঘুমিয়ে ছিলেন। মাঝরাতে হঠাৎ আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় আতঙ্ক। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। চারদিকে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্য হয়ে যায়। ফলে কোন দিকে বেরোনোর রাস্তা, সেটাই বুঝতে পারছিলেন না অনেকে।

দমকল সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, হোটেলের ভিতরে একাধিক সরু করিডর ও গলির মতো পথ ছিল। সেই জটিল কাঠামোর মধ্যে আগুন লাগার পর আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত বেরিয়ে আসতে গিয়ে আরও সমস্যায় পড়েন। অভিযোগ উঠেছে, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। ফলে আগুনের শুরুতেই তা নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ পাওয়া যায়নি বলেও প্রশ্ন উঠছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, মূল বেরোনোর পথ তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে সেই পথ দিয়ে দ্রুত বাইরে আসতে না পারায় অনেকে আটকে পড়েন বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। এই বিষয়টি তদন্তে কতটা সত্যি প্রমাণিত হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।ঘন ধোঁয়ার কারণে অনেকের দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও সামনে এসেছে। আগুনের শিখা হয়তো ভবনের সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েনি, কিন্তু ধোঁয়া দ্রুত বিভিন্ন অংশে পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলকর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং পুলিশও সেখানে পৌঁছয়।

নিউ মার্কেটের মতো ঘিঞ্জি ও ব্যস্ত এলাকায় এই ঘটনা নতুন করে হোটেলগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। একটি হোটেলে পর্যাপ্ত ফায়ার এক্সিট আছে কি না, জরুরি সময়ে মূল পথ খোলা থাকে কি না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কার্যকর কি না—এবার সেই প্রশ্নগুলিই সামনে চলে এসেছে।