নিউজপোল ব্যুরো: নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের ভিতরেও ছিলেন বহু আবাসিক। আচমকাই আগুনের খবর। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় হোটেলের একের পর এক তলা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত আগুনের কবলে পড়ে প্রাণ হারান ৯ জন, তাঁদের মধ্যে ছিল একটি শিশুও। আরও ৬ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর শুধু শোক নয়, সামনে এসেছে হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও একাধিক গুরুতর প্রশ্ন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ও দমকলের অনুমান, হোটেলের বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ড থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। জানা যাচ্ছে, প্রথমে রিসেপশন এলাকায় আগুন লাগে। সেখান থেকেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন ও ধোঁয়া। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলে ফলস সিলিংয়ে ব্যবহৃত দাহ্য সামগ্রী। আগুন দ্রুত ছড়ানোর পাশাপাশি এক থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত ধোঁয়ায় ভরে যায় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, বিপদের সময় আবাসিকদের বেরিয়ে আসার ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ ছিল? অভিযোগ, হোটেলে ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করেনি। ফায়ার এক্সিট নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আগুন যদি মাঝরাতে লাগে, তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন। সেই অবস্থায় দ্রুত সতর্ক করার ব্যবস্থা না থাকলে বিপদ যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। সরু রাস্তার কারণে উদ্ধারকাজেও সমস্যা তৈরি হয় বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আগুনের পাশাপাশি ধোঁয়াই হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী।
হোটেলের পিছনেই ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দমকলের সদর দফতর। অর্থাৎ আগুন লাগার জায়গাটি দমকলের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও এতগুলি প্রাণ চলে গেল কীভাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে প্রশাসন। শহরের পুরনো ও ঘিঞ্জি এলাকার হোটেলগুলিতে অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনা অবশ্য কলকাতার জন্য নতুন কোনও সতর্কবার্তা নয়। গত বছর বড়বাজারের ঋতুরাজ হোটেলে ভয়াবহ আগুনে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তারও আগে ২০১০ সালে স্টিফেন কোর্টের অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছিলেন বহু মানুষ। বারবার অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্ত কমিটি তৈরি হয়েছে, এসেছে একাধিক নির্দেশও। কি মির্জা গালিব স্ট্রিটের আগুন তাই শুধু একটি হোটেল দুর্ঘটনা নয়, শহরের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে বড় পরীক্ষা।
