কীভাবে মিলেছিল ফায়ার সার্টিফিকেট? তারাপীঠ কাণ্ডে বড় কোপ! ৯ জনের মৃত্যুর জেরে সাসপেন্ড দমকলের স্টেশন অফিসার

breakingnews রাজ্য শহর

নিউজপোল ব্যুরো: ১৭ অগস্টের সেই বিভীষিকাময় সকালটা হয়তো সহজে ভুলতে পারবে না তারাপীঠ। ‘হোটেল বিদেশিনী’র সেই সর্বগ্রাসী আগুনে ৯ জন পুণ্যার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির পর অবশেষে ঘুম ভাঙল জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে নবান্নের। অগ্নিকাণ্ডের জল গড়িয়েছে বহুদূর। একদিকে গাফিলতির দায়ে বলির পাঁঠা হলেন দমকলের স্টেশন অফিসার, অন্যদিকে সোজাসুজি নোটিস নিয়ে একের পর এক হোটেলের দরজায় তালা মারতে হাজির পুলিশ ও প্রশাসনের বিশাল বাহিনী। ৯টি তাজা প্রাণের বিনিময়ে কি তবে টনক নড়ল প্রশাসনের? নাকি বড় কোনো সত্য চাপাচাপা দিতেই শুরু হলো এই তোড়জোড়?

তারাপীঠের বুক কাঁপানো অগ্নিকাণ্ডের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে। কীভাবে সঠিক ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছাড়া বছরের পর বছর ধরে রমরমিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল এই সমস্ত হোটেল? সেই উত্তর খুঁজতে গিয়েই এবার খাঁড়া নেমে এলো প্রশাসনের অন্দরে। বরখাস্ত করা হয়েছে স্থানীয় দমকলের স্টেশন অফিসার অভয় চৌধুরীকে। সরকারি সূত্রে খবর, এই হোটেলটিকে কীভাবে ফায়ার ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে গাফিলতি প্রমাণিত হওয়াতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত। কিন্তু কেবল একজন আধিকারিককে কোপ মেরেই কি দায় এড়ানো সম্ভব?

এদিকে, আজ বুধবার সকাল হতেই তারাপীঠে যেন এক অন্য যুদ্ধক্ষেত্র! এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিশাল পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এক যৌথ টিম হানা দেয় এলাকার একাধিক বহুতল হোটেলে। হাতে তাঁদের একগুচ্ছ ক্লোজার নোটিস। ইতিমধ্যেই ফায়ার সেফটি না থাকার অপরাধে ১৫টি নির্দিষ্ট হোটেলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনোরকম রেয়াত না করেই পুলিশের নির্দেশ— “আজকের মধ্যেই পুরো হোটেল খালি করে তালা ঝোলাতে হবে!” পর্যটকদের তড়িঘড়ি ব্যাগপত্র গুটিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক চাপ এতটাই তীব্র যে, রসিদ কেটে আধিকারিকরা সরাসরি নোটিস ধরিয়ে দিচ্ছেন হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের হাতে।

সবচেয়ে বিস্ফোরক বিষয় হলো, এই বেআইনি হোটেলের তালিকায় কেবল ছোটখাটো ব্যবসায়ীরাই নন, নাম রয়েছে শাসকদলের হেভিওয়েট নেতারও! জানা যাচ্ছে, বন্ধের নির্দেশ দেওয়া ১৫টি হোটেলের মধ্যে তৃণমূলের জেলা পরিষদের এক প্রভাবশালী সদস্যের মালিকাধীন হোটেলও রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এদের পূর্বে একাধিকবার সতর্কীকরণ চিঠি পাঠানো হলেও তারা ভ্রূক্ষেপ করেনি। তবে প্রশ্ন থেকে যায়— অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের দেহ ছাই হয়ে যাওয়ার পরেই কেন এই ঝটিকা অভিযান? এর আগে কি পুলিশ-প্রশাসনের চোখে পড়েছিল না এই মারণ ফাঁদগুলো? পুরো তারাপীঠ জুড়ে এখন চাপা আতঙ্ক আর চরম উত্তেজনা।