এবার মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ‘অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট’! ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত মামলায় চরম বিপাকে তৃণমূল নেত্রী

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: কৃষ্ণনগরের আদালত চত্বরে নতুন করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে। ‘তুলসী মালা’ নিয়ে কথিত মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এবার বড় পদক্ষেপ করল আদালত। নির্ধারিত সময়ে সশরীরে হাজির না হওয়ায় মহুয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে মামলার নথি অনুযায়ী জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

ঘূর্ণি এলাকার ছয় মহিলা বাসিন্দা মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে মহুয়ার কিছু কথায় তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। বিশেষ করে ‘তুলসী মালা’ নিয়ে তাঁর কথিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই মামলা সামনে আসে। অভিযোগে আরও কিছু বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলা হয়েছে। মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় দায়ের করা হয়। অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ, হুমকি এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলি আদালতে বিচারাধীন এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

এর আগে কৃষ্ণনগরের তৃতীয় বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত মহুয়া মৈত্রকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে হাজির না হওয়ায় বিচারক বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। শুনানির সময় মহুয়ার আইনজীবীর পক্ষ থেকে আদালত চত্বরে বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। অভিযোগকারীদের আইনজীবী অবশ্য আশ্বাস দেন, আদালত চত্বরে কোনও ধরনের বিক্ষোভ হবে না। পরে আদালত দুই পক্ষকেই শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়।

এর আগে আদালত মহুয়াকে ১৯ অগস্ট সশরীরে হাজির হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল। একই সঙ্গে জানানো হয়েছিল, তিনি আদালতে উপস্থিত হওয়ার পরই ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ছাড়ের আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে। কিন্তু হাজিরা নিয়ে জটিলতার পর এবার পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নিল। এখন প্রশ্ন একটাই—গ্রেফতারি পরোয়ানার পর মহুয়া মৈত্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী? তিনি কি দ্রুত আদালতে হাজির হয়ে আইনি পথে পরোয়ানা মোকাবিলা করবেন, নাকি এই মামলা আরও বড় রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের দিকে এগোবে? কৃষ্ণনগরের এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন নজর।