নিউজপোল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি মিটিং ঘিরে বুধবার হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠল পরিস্থিতি। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি, পরে হাতাহাতির অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এবিভিপির দাবি, তাদের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে মারধর করা হয়েছে। ঘটনায় সংগঠনের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাস-সহ একাধিক পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবারের একটি ডাককে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে জিবি মিটিংয়ের আয়োজন করেছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। কিন্তু এতেই তীব্র আপত্তি জানায় এবিভিপি। তাদের সাফ যুক্তি, বর্তমানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন সক্রিয় নেই। তাহলে কোন এক্তিয়ারে এবং কাদের অনুমোদনে এই ধরণের জেনারেল বডি মিটিং ডাকা হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানাতে বামপন্থী শিবিরগুলির মুখোমুখি হন এবিভিপি সমর্থকরা। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তীব্র বচসা, যা মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
অভিযোগ, প্রতিবাদ জানাতেই পরিস্থিতি এক লহমায় বদলে যায় তাণ্ডবে। এবিভিপি-র দাবি, আচমকাই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন বামপন্থী সমর্থক দলবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। কিল, চড়, ঘুসি থেকে শুরু করে দফায় দফায় চলে হাতাহাতি। এই নৃশংস হামলায় এবিভিপি-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাস সহ একাধিক পড়ুয়া গুরুতর আহত হন বলে খবর। শুধু তা-ই নয়, এই সংঘর্ষের মাঝে ক্যাম্পাসের অন্দরে গর্হিত দেশবিরোধী স্লোগান তোলারও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে এবিভিপি।
সংঘর্ষের জেরে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন ছাত্র। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত চারজন এবিভিপি সমর্থককে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তাঁরা। ক্যাম্পাসে এই ভয়াবহ গোলমালের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহলে চরম চাঞ্চল্য দেখা দেয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং আহত ছাত্রদের হালহকিকত নিতে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান যাদবপুর বিধানসভার বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি।
যাদবপুর মানেই কি কেবলই ছাত্র রাজনীতি আর রক্তপাত? ইউনিয়নহীন ক্যাম্পাসে জিবি মিটিং ডাকার এই প্রবণতা আর তার জবাবে এই হিংসাত্মক লড়াই— সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। একদিকে দেশবিরোধী স্লোগানের মতো মারাত্মক অভিযোগ, অন্যদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্র পেটানোর ঘটনা— বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও এখন উঠছে হাজারও প্রশ্ন। উত্তেজনার পারদ এখনও তুঙ্গে, যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও বিষিয়ে ওঠার আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা ক্যাম্পাস।
