যাদবপুরে পড়ুয়াদের আটকে রেখে আগুন জ্বালানোর বিস্ফোরক অভিযোগ, হামলার প্রতিবাদে আজ বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানের ডাক ABVP-র

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো: জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতের তাণ্ডবের পর এবিভিপির দাবি— তাদের সমর্থকদের একটি ঘরে আটকে রেখে বাইরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল! তবে এই বিস্ফোরক দাবির স্বাধীন সত্যতা কিংবা বাম শিবিরের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। এই হামলার প্রতিবাদেই আজ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানের ডাক দিয়েছে এবিভিপি, যা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে।

ঘটনার সূত্রপাত বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা একটি জেনারেল বডি (GB) মিটিংকে কেন্দ্র করে। এবিভিপির সাফ বক্তব্য, বর্তমানে ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্বাচিত ছাত্র ইউনিয়ন নেই। তাহলে কোন এক্তিয়ারে এই ধরণের বৈঠক ডাকা হচ্ছে? এই বেআইনি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই বাম শিবিরের মুখোমুখি হন এবিভিপি সদস্যরা। আর সেখান থেকেই শুরু হয় তীব্র বচসা, যা মুহূর্তের মধ্যে এক চরম হিংসাত্মক রূপ ধারণ করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

এবিভিপির দাবি, আচমকাই প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দলবদ্ধ বামপন্থী বাহিনী লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। অভিযোগ আরও ভয়াবহ— কয়েকজন সমর্থককে ঘরে আটকে রেখে বাইরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, যার জেরে ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে হুলুস্থুল পড়ে যায়। এই নৃশংস হামলায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নিখিল দাস সহ একাধিক সমর্থক গুরুতর জখম হন। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী স্লোগান তোলারও মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

খবর পেয়েই গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান স্থানীয় যাদবপুর বিধানসভার বিধায়ক শর্বরী মুখার্জি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত ৪ জন এবিভিপি পড়ুয়াকে উদ্ধার করে কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে চিকিৎসাধীন ছাত্রদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন বিধায়ক এবং ক্যাম্পাসের এই নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।

এদিকে আজ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল ও বিশ্ববিদ্যালয় অভিযানের ডাক দিয়েছে এবিভিপি। ইউনিয়নহীন ক্যাম্পাসে জিবি মিটিং ডাকা এবং ছাত্রদের ওপর এই বর্বর আক্রমণের বিরুদ্ধে আজ অচল হতে পারে দক্ষিণ কলকাতা। গোলপার্ক ও যাদবপুর সংলগ্ন এলাকায় ফের নতুন করে বড়সড় অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ ও প্রশাসন।