খাবার কিনতে গিয়ে আর ফিরল না ১২ বছরের কিশোরী! রাতেই ১ জন গ্রেফতার, ক্ষিপ্ত জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজনের মৃত্যু!

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ১২ বছরের এক নিষ্পাপ নাবালিকাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে খুনের ভয়ঙ্কর অভিযোগে গতকাল, রবিবার (৫ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। ধপধপি ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সূর্যপুর হাট এলাকায় এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ বাড়ি থেকে মাত্র কয়েক পা দূরে খাবার কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল ওই কিশোরী। এরপর গভীর রাতে বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরে একটি পচা পুকুর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে আমজনতা।পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার ভোররাত থেকে চলা দফায় দফায় মেগা অভিযানের পর বারুইপুর থানার পুলিশ এই ঘটনায় যুক্ত থাকার সন্দেহে ৪ জনকে আটক করেছে, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১ জনকে রাউন্ডআপ করে অফিশিয়ালি গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে পুলিশের এই অ্যাকশনের আগেই ক্ষিপ্ত জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। প্রধান সন্দেহভাজন এক অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি বা গণপ্রহার শুরু করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রবিবার সকালে দেহ আটকে রেখে উত্তেজিত জনতা বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি পুলিশের হাতের বাইরে চলে যায়। উন্মত্ত জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী রক্তাক্ত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামানো হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)। উত্তেজিত জনতা শিয়ালদহ-নামখানা লাইনে ট্রেন অবরোধ করার পাশাপাশি দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা মূল সড়কও অবরোধ করে রাখে।এই চরম সংকটের মাঝেই আজ মৃতা ছাত্রীর অসহায় বাবার মোবাইলে সরাসরি ফোন আসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ফোনে কথা বলে মৃতা ছাত্রীর পরিবারকে সব রকম সাহায্যের ও কড়া শাস্তির আশ্বাস দেন। একই সাথে আগামীকাল, মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) মৃতা কিশোরীর বাবাকে সরাসরি ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুবাবু স্পষ্ট জানিয়েছেন, পরিবারের মুখে সমস্ত অভিযোগ তিনি নিজে শুনবেন এবং এই ঘটনার পেছনে থাকা কোনো রাঘববোয়ালকেই রেহাই দেওয়া হবে না।আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না কোনো অপরাধীই!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই অনড় অবস্থান এবং পুলিশের অল-আউট অ্যাকশনের পর এটা জলের মতো পরিষ্কার যে, বারুইপুরের এই পৈশাচিক কাণ্ডের আসল অপরাধীদের শ্রীঘরের অন্ধকার কুঠুরিতে পচতেই হবে। ক্ষমতার দম্ভ বা কোনো ছাতাই এবার আর ঢাল হতে পারবে না। বারুইপুর কাণ্ডে আর কারা জড়িত, সেই উত্তর খুঁজতেই জোরকদমে এগোচ্ছে SIT তদন্ত। গোটা রাজ্যের নজর এখন এই তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকে।