নিউজপোল ব্যুরো: সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সরকারি দফতরে আগুন লাগানো কিংবা পুলিশের উপর হামলা—এবার এই ধরনের ঘটনায় আরও কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা ক্ষতি করলে অভিযুক্তদের কাছ থেকেই সেই ক্ষতির টাকা আদায় করা হবে। শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তিন গুণ সুদ-সহ টাকা আদায়ের বিধি কার্যকর করা হয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
সোমবার স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফে এই সংক্রান্ত নোটিফিকেশন জারি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিধানসভায় সংশ্লিষ্ট বিল পাশ হওয়ার পর রাজ্যপালের সম্মতিও পাওয়া গিয়েছে। এরপর রাজ্য সরকারের তরফে নিয়ম জারি করা হয়েছে এবং নয়া বিধি কার্যকর হয়েছে। কী ধরনের ঘটনায় এই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, বিডিও অফিসে আগুন, থানায় হামলা বা অগ্নিসংযোগ, পুলিশকে আক্রমণ—এই ধরনের অপরাধে সরকারি সম্পত্তির যে ক্ষতি হবে, তার আর্থিক দায়ও অভিযুক্তদের উপর চাপানো হতে পারে।
অর্থাৎ, আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করে পরে পার পাওয়া সহজ হবে না—এমনই বার্তা দিতে চাইছে সরকার। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে অভিযুক্তদের কাছ থেকেই টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, এই ব্যবস্থা রাজ্যের ‘গুন্ডা দমন আইন’-এর অংশ। তাঁর কথায়, আইন হাতে তুলে নিয়ে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা বা সাধারণ মানুষের পরিষেবা ব্যাহত করার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সরকার গঠনের পর থেকেই তোলাবাজি, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলা হচ্ছে। এবার সরকারি সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে করিমপুরের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েকদিন আগে সেখানে একটি ইলেকট্রিক অফিসে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই ঘটনায় গ্রেফতারিও হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিক্ষোভ বা আন্দোলনের সময় সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার আর্থিক দায় কার উপর বর্তাবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি দফতর, থানা, বিডিও অফিস বা অন্যান্য সরকারি পরিকাঠামোয় হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি ব্যবস্থা নয়, আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠতে পারে। সরকারের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতেই এই কঠোর বিধি।
