১৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান, বাংলার মাটিতে এবার তেলের খনি! অশোকনগরে ২৩৯৬ মিটার নিচ থেকে কাঁচা তেল উত্তোলনে ওএনজিসির মেগা ধামাকা

breakingnews প্রযুক্তি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের বাইগাছিতে মাটির গভীর থেকে উঠল অপরিশোধিত খনিজ তেল। শুক্রবার ওএনজিসির উদ্যোগে শুরু হল বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন। প্রায় ২৩৯৬ মিটার গভীর থেকে উঠে আসা এই কাঁচা তেল ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছে রাজ্য তথা দেশ।

প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কিউবিক মিটার অর্থাৎ প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লিটার অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে পাম্পজ্যাক। উত্তোলিত তেল বিশেষ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পাঠানো হবে হলদিয়া রিফাইনারিতে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হবে।

অশোকনগরের মাটির নীচে তেলের সম্ভাবনা অবশ্য আজকের নয়। ২০১৮ সালে বাইগাছি এলাকায় প্রথম খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু নানা কারণে তখন বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ফের খনন করে তেলের সন্ধান মেলে। ২০২০ সালে পরীক্ষামূলক উত্তোলনের সময় প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাওয়া গিয়েছিল। এরপর কেটে গিয়েছে আরও কয়েক বছর। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হল।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক উত্তোলনের সূচনা করেন ওএনজিসির ডিরেক্টর (এক্সপ্লোরেশন) ওমপ্রকাশ সিনহা এবং অশোকনগরের বিধায়ক সুময় হীরা। ওএনজিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোকনগর তৈলক্ষেত্রে মোট ছ’টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি খনিজ তেল এবং দু’টি প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য নির্ধারিত। ওএনজিসির তরফে জানানো হয়েছে, আগের পরীক্ষামূলক উত্তোলনের সময় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে বাইগাছি থেকে পাওয়া তেলের গুণমান তুলনামূলকভাবে ভালো। উত্তোলিত কাঁচা তেলের সঙ্গে জলও থাকবে। প্রথম ধাপে জল ও তেল আলাদা করা হবে। এরপর অপরিশোধিত তেল পাঠানো হবে পরিশোধনের জন্য।

দেশের প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের বড় অংশ এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে দেশের মাটিতে উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। অশোকনগরের তেলক্ষেত্র সেই লক্ষ্যেই ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আরও বড় পরিকল্পনাও রয়েছে। এলাকায় ভবিষ্যতে আরও চারটি কূপ খননের কথা জানানো হয়েছে। ফলে উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাইগাছির অপরিশোধিত তেলের API গ্র্যাভিটি প্রায় ৪০-৪১ বলে জানা গিয়েছে, যা মানের দিক থেকে দেশের অন্যতম পরিচিত তেলক্ষেত্র বম্বে হাইয়ের তেলের সঙ্গে তুলনীয় বলে দাবি করা হচ্ছে।