নিউজ পোল ব্যুরো:একসময় হাতে ছিল না মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক, ছিল না কোনও বড় পদ। সেটে ছোটখাটো কাজ করেই দিন কাটত। এমনকি অভিনেত্রী টাবুর শাড়ি পর্যন্ত ইস্ত্রি করতে হয়েছে তাঁকে। আর আজ? তাঁর নামেই কোটি কোটি টাকার ছবি, তাঁর পরিচালনায় কাজ করতে মুখিয়ে থাকেন বলিউডের তাবড় তারকারা। তিনি আর কেউ নন, রোহিত শেট্টি (Rohit Shetty struggle story)।
বলিউডে ‘অ্যাকশন’ আর ‘ম্যাস এন্টারটেনমেন্ট’-এর কথা উঠলেই যে কয়েকজন পরিচালকের নাম সবার আগে আসে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম রোহিত শেট্টি। বড় বাজেট, চোখধাঁধানো অ্যাকশন, উড়তে থাকা গাড়ি আর তারকা-সমৃদ্ধ ছবি—এই স্টাইলই তাঁকে বলিউডে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি।
রোহিত শেট্টির বাবা এম বি শেট্টি ছিলেন বলিউডের পরিচিত স্টান্টম্যান, স্টান্ট কো-অর্ডিনেটর এবং অভিনেতা। পরিবারের চলচ্চিত্র-যোগ থাকলেও বাবার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। আর্থিক সমস্যার কারণে অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজ শুরু করতে হয় রোহিতকে।
সিনেমার সেটেই শুরু হয় তাঁর সংগ্রাম। কখনও স্পট বয়, কখনও হেয়ার ড্রেসারের কাজ—যে কাজ পেয়েছেন, সেটাই করেছেন। ১৯৯৫ সালের ‘হকিকত’ ছবির সেটে অভিনেত্রী টাবুর শাড়ি ইস্ত্রি করার কাজও করতে হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তীতে কাজলের হেয়ার ড্রেসার হিসেবেও কাজ করেছেন রোহিত।
কিন্তু ছোট কাজকে কখনও ছোট করে দেখেননি তিনি। বরং সেই অভিজ্ঞতাকেই নিজের ভবিষ্যতের সিঁড়ি বানিয়েছিলেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন রোহিত। অজয় দেবগনের ডেবিউ ছবি ‘ফুল অর কাঁটে’-তেও তিনি সহকারী পরিচালক ছিলেন।
দীর্ঘদিন সহকারী হিসেবে কাজ করার পর ২০০৩ সালে ‘জমিন’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রোহিত। প্রথম ছবি বড় সাফল্য না পেলেও হাল ছাড়েননি তিনি। ২০০৬ সালে ‘গোলমাল: ফান আনলিমিটেড’ তাঁর কেরিয়ারে বড়সড় মোড় এনে দেয়।
এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘গোলমাল’ ফ্র্যাঞ্চাইজি, ‘সিংহম’, ‘সিংহম রিটার্নস’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘দিলওয়ালে’, ‘সিম্বা’, ‘সূর্যবংশী’ থেকে ‘সিংহম এগেন’—একাধিক বাণিজ্যিক সফল ছবি উপহার দিয়েছেন রোহিত শেট্টি।
অজয় দেবগনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্কও বলিউডে অত্যন্ত চর্চিত। সহকারী পরিচালক হিসেবে অজয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করা সেই তরুণই পরবর্তীতে ‘সিংহম’-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম কারিগর হয়ে ওঠেন।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও রোহিত শেট্টির (Rohit Shetty struggle story)।ব্যস্ততা কমেনি। ‘সিংহম এগেন’-এর পর বর্তমানে তাঁর অন্যতম আলোচিত প্রজেক্ট ‘Maria IPS’। জন আব্রাহাম অভিনীত এই ছবিটি প্রাক্তন মুম্বই পুলিশ কমিশনার রাকেশ মারিয়ার জীবন ও কর্মজীবন থেকে অনুপ্রাণিত। ছবিটি নিয়েও ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
তাই রোহিত শেট্টির গল্পটা শুধু একজন সফল পরিচালকের গল্প নয়। এটা প্রমাণ করে—শুরুটা যতই কঠিন হোক, নিজের স্বপ্ন আর পরিশ্রমকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে গেলে একদিন সেই মানুষটিই হয়ে উঠতে পারেন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বড় নাম।
যে মানুষটা একদিন সেটে টাবুর শাড়ি ইস্ত্রি করেছিলেন, আজ তাঁর নামেই ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ভিড় করেন দর্শক। এটাই রোহিত শেট্টির ‘স্ট্রাগল টু সাকসেস’ গল্প।
