নিউজপোল ব্যুরো: বৃষ্টির দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত বীরভূম। বোলপুরে একদিনের বৃষ্টির পরিমাণ পৌঁছে গেল এমন এক জায়গায়, যা প্রায় চার দশকের পুরনো রেকর্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীনিকেতন ওয়েদার স্টেশনে ২৬২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ১৯৮৯ সালের পর একদিনে এত বেশি বৃষ্টির নজির ফের সামনে এল।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৭৮ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বোলপুরে একদিনে ৩৪১.৮ মিমি এবং ১৯৮৯ সালের ২৯ জুলাই ২৬৫.৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছিল। সেই হিসেবে ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি বীরভূমের সর্বাধিক বৃষ্টিপাতের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। শুধু বীরভূম নয়, এই সময়ের মধ্যে কলকাতাতেও প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। মহানগরে ১২৯.৮ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এরপর ব্যারাকপুরে ১২০ মিমি এবং আসানসোলে ১১৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে একাধিক আবহাওয়া ব্যবস্থা। মূল নিম্নচাপটি বাংলা পেরিয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশের দিকে সরে গেলেও তার প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি। আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপটি বাংলা ছাড়ার পর বীরভূম সংলগ্ন মালভূমি এলাকায় কিছুটা আটকে থাকায় ওই অঞ্চলে বিপুল জলীয় বাষ্প জমে প্রবল বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর সঙ্গে সক্রিয় ছিল একটি ঘূর্ণাবর্তও। ফলে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় তৈরি হয় বজ্রগর্ভ মেঘ।
শুধু বৃষ্টি নয়, প্রবল বজ্রপাত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতেও বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় জলমগ্ন এলাকা ও নিচু জায়গার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
