টুলু মণ্ডল কি তবে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে গা ঢাকা দিলেন? এবার ম্যানেজারের বাড়িতে তালা ভেঙে তল্লাশি, রহস্য আরও ঘনীভূত

অপরাধ আইন আন্তর্জাতিক রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী মহম্মদ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। বিপুল সম্পত্তির হদিশ মিললেও এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে তিনি। টুলু দেশে রয়েছেন, নাকি বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এর মধ্যেই তাঁর আরও এক ম্যানেজারের বাড়িতে হানা দিল বীরভূম পুলিশ।

শুক্রবার ভোর ৬টা নাগাদ সিউড়ির জাতীয় সড়কের পাশে রমেন বসাকের বাড়িতে পৌঁছন তদন্তকারীরা। কিন্তু সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। এরপর তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে শুরু হয় তল্লাশি। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। তবে অভিযান শেষে কোনও নথি বা গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ প্রকাশ্যে কিছু জানায়নি।

এই তল্লাশির পিছনে রয়েছে আগের দিনের একটি তদন্তসূত্র। টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ ও সোনা উদ্ধারের পরদিন সিউড়িতে একটি গাড়ি আটক করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, সেই গাড়িতে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এবং জাল DCR। ওই ঘটনায় রমেন বসাক-সহ তিনজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে রমেনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও তদন্তকারীদের নজরে থেকে যান তিনি। সেই সূত্র ধরেই এদিনের অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ২৯ জুলাই মিনারের বাড়ি থেকে প্রায় ২৮ কোটি টাকা নগদ এবং প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের দাবি সামনে আসে। পাশাপাশি টুলু ও তাঁর পরিবারের নামে ৪০০ বিঘার বেশি জমির নথির হদিশও মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সব মিলিয়ে টাকা ও সোনা-সহ প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি।

টুলুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু মূল অভিযুক্তের অবস্থান এখনও অজানা। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এত সম্পত্তির হদিশ মিললেও টুলু মণ্ডলকে এখনও কেন ধরা যাচ্ছে না? তিনি কোথায়, সেটাই এখন তদন্তের সবচেয়ে বড় ধাঁধা।