নিউজপোল ব্যুরো: আরজি কর-কাণ্ডের তদন্ত নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র চাপানউতোর। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার সরাসরি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি ও শাস্তির দাবি তুললেন পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শুক্রবার আসানসোলে একটি দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজোয় যোগ দিয়ে এমনই দাবি করেন তিনি।
পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে গ্রেফতার হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে অগ্নিমিত্রার প্রশ্ন, ঘটনায় আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশ পদক্ষেপ করলে তৎকালীন প্রশাসনের শীর্ষে থাকা ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও কেন তদন্ত হবে না? তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পর ময়নাতদন্ত এবং ঘটনাস্থল সংরক্ষণ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়নি। গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও তাঁর এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আদালত ও তদন্তকারী সংস্থার বিষয়।
আসানসোল কোর্ট রোড এলাকার একটি পুজো মণ্ডপে দাঁড়িয়ে অগ্নিমিত্রা পাল আরজি কর মামলার অন্যতম অভিযুক্ত তথা পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-র গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে রাজ্য প্রশাসনকে বিঁধে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সোমনাথ দে বা নির্মল ঘোষের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যদি আইনি জালে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হতে পারেন, তবে গোটা ঘটনার সময় নেপথ্যে থাকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কেন ছাড় পাবেন? তাঁর অভিযোগ, ঘটনার রাতে অকুস্থল সঠিকভাবে সংরক্ষণ বা উপযুক্ত স্থানে ময়নাতদন্ত করানোর কোনো প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়নি। বরং পুরো ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা উচিত।
তবে এই রাজনৈতিক আক্রমণের পর মুহূর্তেই ঘটে অন্য বিপত্তি। আসানসোল পুরসভার ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের আট নম্বর বস্তিতে আয়োজিত জনতার দরবারে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়ার ক্ষোভ জানাতে আসা স্থানীয় মহিলাদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও মন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জোৎস্না বাউড়ি, মনীষা দেবীদের মতো একাধিক বাসিন্দা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজেই লাউডস্পিকার হাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং ধমকের সুরে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হওয়ার কড়া নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় এক বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদনকারীদের ফোন নম্বর জমা নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলে সাময়িকভাবে মেটে এই ক্ষোভের আগুন।
