টানা সাড়ে ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন তল্লাশি শেষে খাঁচায় পুরল নাদিমুলের ৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক দুর্নীতির মেগা ফাইল

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো: সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা— টানা প্রায় সাড়ে ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন সিজ অপারেশন! কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর একের পর এক অতর্কিত হানায় এখন কাঁপছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহল। ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের পার্ক সার্কাসের অফিসে রাতভর অভূতপূর্ব তল্লাশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করলেন ইডি আধিকারিকেরা। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে প্রায় ৬০ কোটি টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের এক চরম বিস্ফোরক তথ্য!

এক কিংবা দুই রাজ্যে নয়, একই সঙ্গে কলকাতা, দিল্লি এবং ঝাড়খণ্ডের রাঁচি— এই তিন রাজ্যের মোট ৭টি ভিন্ন ঠিকানায় সোমবার সকাল থেকেই সমন্বিত অল-আউট অ্যাকশনে নামেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, সাংসদ নাদিমুল হকের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও সন্দেহজনক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সোমবার রাঁচিতে পৌঁছে সরাসরি তৃণমূল সাংসদকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডি আধিকারিকেরা। এরপর গভীর রাতে, রাত আনুমানিক ১১টা ২০ নাগাদ সাংসদের নিজস্ব গাড়িতে করেই তাঁকে কলকাতার পার্ক সার্কাসের অফিসে নিয়ে আসা হয়।

পার্ক সার্কাসের ১২ নম্বর দরগা রোডে অবস্থিত নাদিমুল হকের সংবাদপত্র দপ্তরে রাতভর চলে চিরুনি তল্লাশি। শুধু সংবাদপত্র দপ্তরই নয়, দরগা রোডের কাছেই অবস্থিত সাংসদের বোন ও ভগ্নিপতির ফ্ল্যাটেও একযোগে হানা দেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সেখান থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ব্যাংক সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, চলতি বছর আগস্ট মাসে বিধাননগর উত্তর থানায় সাংসদের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর আর্থিক তছরুপের লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই অভিযোগকে ভিত্তি করেই ইসিআইআর (ECIR) দায়ের করে এই মেগা তদন্ত প্রক্রিয়ার সূচনা করে ইডি।

রাঁচি থেকে কলকাতা পর্যন্ত প্রসারিত এই বিশাল আর্থিক চক্রের নেপথ্যে আর কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস ও নথিপত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই নজিরবিহীন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও সাড়ে ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের অন্দরে যে চরম অস্থিরতা ও থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।