ইছামতির মাটি ছুঁয়ে দীপনের জয়যাত্রা, কলেজ পড়ুয়ার প্রতিমা পাড়ি দিচ্ছে রাজ্য ছাড়িয়ে

জেলা

নিউজপোল ব্যুরো: ইছামতির পাড়ে বেড়ে ওঠা এক ছোট্ট ছেলের চোখে ছিল বড় স্বপ্ন। হাতে ছিল না দামি সরঞ্জাম, ছিল না কোনও প্রশিক্ষিত শিল্পীর সান্নিধ্য। ছিল শুধু মনের মধ্যে প্রতিমা গড়ার অদম্য ইচ্ছে। সেই ইচ্ছেকেই সঙ্গী করে আজ নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন টাকির কলেজ পড়ুয়া দীপন বিশ্বাস।

বয়স তখন মাত্র ১২। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র দীপন বাবার আনা বিস্কুটের পেটি কেটে তার গায়ে আঁকতেন, দেখে দেখে তৈরি করতেন ঠাকুরের অবয়ব। সেখান থেকেই শুরু। বাবার টিফিনের টাকা থেকে একটু একটু করে সঞ্চয় করে কিনতেন বিচুলি, রং আর তুলি। আর ইছামতি নদীর মাটি হয়ে উঠেছিল তাঁর শিল্পের অন্যতম প্রধান উপকরণ।

আরও দেখুন :-ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যু, ১৪ বছর পর নিথর দেহ হয়ে ফিরলেন সুব্রত

এক ফুটের প্রতিমা দিয়ে শুরু হওয়া সেই পথচলা আজ পৌঁছেছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিমা তৈরিতে। টাকি গভর্নমেন্ট কলেজের (Taki Government College)  তৃতীয় বর্ষের ছাত্র দীপনের তৈরি প্রতিমার বরাত আসছে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। ধীরে ধীরে সেই পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ছে ভিন রাজ্যেও। প্রতিমা তৈরি করে যে অর্থ উপার্জন করেন, তার বড় অংশ আবার শিল্পের কাজেই ব্যয় করেন দীপন। বাকি অর্থ দিয়ে চালিয়ে যান পড়াশোনা।

ছেলের এই লড়াইয়ের নীরব সঙ্গী মা গীতা বিশ্বাস। তাঁর চোখে একটাই স্বপ্ন—ইছামতির মাটি দিয়ে যে ছেলে নিজের স্বপ্ন গড়ছে, একদিন সেই শিল্প দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও পৌঁছবে। বিস্কুটের পেটি থেকে শুরু হওয়া সেই গল্প আজ মৃন্ময়ী প্রতিমায় নতুন এক ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে।