নেপাল বিপর্যয়ের ধাক্কায় কাঁপছে পাহাড়বাসি, পরিস্থিতি সামলাতে আজই উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মেগা সফর

breakingnews দেশ প্রযুক্তি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: প্রতিবেশী দেশ নেপালের বুকজুড়ে নেমে আসা আচমকা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ এবার আছড়ে পড়ল পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলেও। সীমান্তে উদ্ভূত ভয়াবহ পরিস্থিতি ও পাহাড়ি এলাকায় তৈরি হওয়া আশঙ্কার মেঘ কাটাত এবার সশরীরে ময়দানে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুরো পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং সাধারণ মানুষের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আজই তড়িঘড়ি উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন তিনি। কালিম্পং থেকে শুরু করে শিলিগুড়ির প্রশাসনিক অলিন্দ ‘উত্তরকন্যা’— এক দিনেই টানা একাধিক হাই-ভোল্টেজ বৈঠক ও পরিদর্শন সেরে উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নজিরবিহীন বার্তা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার নির্দিষ্ট সূচি মেনেই কলকাতা থেকে রওনা দিয়ে সোজা বাগডোগরা বিমানবন্দরে গিয়ে নামবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে আর দেরি না করে বিশেষ হেলিকপ্টারে সটান চলে যাবেন পাহাড়ি শহর কালিম্পংয়ে। কালিম্পং টাউন হলে আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে পাহাড়ের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের হাতে বিভিন্ন সরকারি সামাজিক যোজনার সুবিধা সরাসরি তুলে দেবেন তিনি। এরপরই জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী, যেখানে কালিম্পং মেডিক্যাল কলেজের জন্য প্রস্তাবিত জমি সরেজমিনে পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।

কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক পর্ব মিটিয়ে হেলিকপ্টারেই মুখ্যমন্ত্রীর পরবর্তী গন্তব্য শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম ভিডিওকন হেলিপ্যাড। সেখান থেকে সড়কপথে সোজা উত্তরবঙ্গ সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’-য় পৌঁছাবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক, বিভাগীয় সচিব এবং উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ প্রধানদের নিয়ে একটি মেগা রিভিউ মিটিং ডাকবেন তিনি। নেপাল বিপর্যয়ের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করা, পাহাড়ি রাস্তাঘাটের নজরদারি বাড়ানো এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও উদ্ধার সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করার কথা রয়েছে শুভেন্দুর।

রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, নেপাল বিপর্যয়ের পর উত্তরের পাহাড়জুড়ে যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফর তা এক লপ্তে কেটে দিল। একদিকে পাহাড়বাসীকে সরাসরি সামাজিক সুরক্ষা ভাতা ও নাগরিক সুবিধা দেওয়া, অন্যদিকে কালিম্পংকে স্বাস্থ্য-পরিষেবার দিক থেকে সমৃদ্ধ করতে মেডিক্যাল কলেজের জমির তদারকি— সমস্তটা মিলিয়ে উত্তরবঙ্গকে বিন্দুমাত্র অবহেলা না করার এক জোরালো বার্তা স্পষ্ট করে দিল নবান্ন। দুর্যোগের চরম মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর এই অল-আউট অ্যাকশন এখন পাহাড়ি জেলাগুলিতে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।