উৎসবের মরশুমে খাবারের প্লেটেই মারণ ফাঁদ? পচা মাছ-মাংস, ছত্রাক, বিরিয়ানিতে দেওয়াল রং! কলকাতায় ৫৯২ জায়গায় হানা, ৪০ সংস্থার লাইসেন্সে কোপ

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা শহর

নিউজপোল ব্যুরো: একদিকে পুজোর মুখে রেস্তরাঁয় জমজমাট ভিড়, অন্যদিকে সেই খাবারের প্লেটেই যদি থাকে পচা মাংস, ছত্রাক কিংবা বিষাক্ত রং—তাহলে বিপদটা শুধু পেট খারাপেই থেমে থাকে না! কলকাতায় সপ্তাহব্যাপী খাদ্য সুরক্ষা অভিযানের পর একাধিক সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় এবার সামনে এসেছে আরও বড় প্রশ্ন—এতদিন যে খাবার আমরা না জেনে খেয়েছি, তার প্রভাব শরীরের ভিতরে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে?

অভিযানে কোথাও মেয়াদ উত্তীর্ণ মাংস, কোথাও পচা মাছ, আবার কোথাও খাবারে অনুপযুক্ত রং ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। কলকাতা পুরসভার তরফে প্রায় ৪০টি সংস্থার লাইসেন্স সাসপেন্ড করার খবরের পর স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা না হলেও কিছু ক্ষেত্রে দূষিত খাবারের জীবাণু বা রাসায়নিক শরীরে ঢুকে অসুস্থতা তৈরি করতে পারে।

চিকিৎসক ডা. প্রভাসপ্রসূন গিরির বক্তব্য অনুযায়ী, পচা মাংস বা ছত্রাকযুক্ত খাবার থেকে ফুড পয়জনিং হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শরীরে টক্সিন ছড়িয়ে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, কিডনির উপর চাপ এবং একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতায় সমস্যা তৈরি হওয়ার মতো বিপদও দেখা দিতে পারে। তাঁর দাবি, এমন খাবার খেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে কয়েকজনকে আইসিইউতেও ভর্তি করতে হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়েছে। চিকিৎসক বিপ্রেশ চক্রবর্তীর কথাতেও একই সতর্কতা। তাঁর মতে, বাসি বা দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ করা খাবার থেকে অ্যাকিউট গ্যাস্ট্রোএন্টারাইটিস এবং ফুড পয়জনিং হতে পারে। আচমকা বমি, পেটের সমস্যা, লুজ মোশন কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অর্থাৎ, খাবার মুখে ভালো লাগলেই যে তা নিরাপদ, এমনটা নয়।

পুষ্টিবিদ স্বাগতা মুখোপাধ্যায়ের মতে, খাবারে অতিরিক্ত জীবাণু বা ছত্রাক থাকলে হজমের সমস্যা তৈরি হতে পারে। সব খাবার দীর্ঘক্ষণ উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না হয় না। ফলে দূষিত খাবারের জীবাণু শরীরে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক হিসাবও বিষয়টির ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে। WHO জানিয়েছে, দূষিত খাবার খেয়ে বিশ্বে বছরে আনুমানিক ৮৬.৬ কোটি মানুষ অসুস্থ হন এবং প্রায় ১৫.২ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস নয়, খাবারে থাকা রাসায়নিক দূষণও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তাই চিকিৎসকদের বার্তা একটাই—রেস্তরাঁয় খাওয়ার সময় শুধু স্বাদ নয়, খাবারের গন্ধ, রং, সংরক্ষণের ধরন এবং পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দিতে হবে। সন্দেহজনক খাবার খাওয়ার পর বারবার বমি, তীব্র ডায়রিয়া, জ্বর, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টিকে সাধারণ পেটের সমস্যা ভেবে ফেলে রাখা ঠিক নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।