চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশে পাচার, ১৭ দিন পর ভাইয়ের হাতে ফিরলেন মধুমিতা

অপরাধ রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: সংসারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন কলকাতার শ্যামপুকুরের বাসিন্দা মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল। সোশ্যাল মিডিয়া তিনি তামিলনাড়ুতে পাওয়া চাকরির প্রস্তাবকে বিশ্বাস করেন। কিন্তু সেখানে চাকরি তো দূরের কথা, অভিযোগ, তাঁকে পাচার করে দেওয়া হয় বাংলাদেশে। দীর্ঘ ১৭ দিন পর অবশেষে দেশে ফিরলেন মধুমিতা।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মধুমিতা মূলত উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির বাসিন্দা। পারিবারিক সমস্যার কারণে কয়েক বছর আগে তিনি সন্তানকে নিয়ে ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির কাছে চলে আসেন। সংসারের সদস্যসংখ্যা বাড়ায় আর্থিক চাপও বাড়ছিল। তাই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কাজ খুঁজছিলেন মধুমিতা।

সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়। তামিলনাড়ুর একটি ওয়ার্কশপে ভালো বেতনের চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে গত ১ জুলাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান মধুমিতা। এরপর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁর।

প্রায় ১৭ দিন পর আচমকাই ভাই দীপঙ্করকে ফোন করেন মধুমিতা। ফোনে জানান, চাকরির নামে তাঁকে বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে। কোনওভাবে সেখান থেকে বেরিয়ে গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। এরপরই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। বিষয়টি জানানো হয় রাজ্য পুলিশ, সিআইডি, কলকাতা পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও। শুরু হয় তাঁকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া।

অবশেষে বুধবার ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরানো হয় মধুমিতাকে। সেখানে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের আধিকারিক ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে তাঁকে ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বোনকে ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারের মধ্যে। ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে এবং কীভাবে তাঁকে বাংলাদেশে পাচার করা হল, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।