নিউজপোল ব্যুরো: জোড়াফুল আর দলীয় নাম ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ আসলে কার আইনি সম্পত্তি— আগামী শনিবার দিল্লির হাই-ভোল্টেজ দরবারে সেই মহা-ফয়সালা হতে চলেছে! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রেস্টিজ ফাইটের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার হাতে মাত্র আর চার দিন বাকি থাকতে, প্রকাণ্ড এক রাজনৈতিক ধামাকা ঘটাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজধানী দিল্লির দ্বারকায় অবস্থিত ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ (IIIDEM)-এর রুদ্ধদ্বার ঘরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী দুই শিবিরকেই পৃথক পৃথক সময়ে তলব করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।
কমিশন সূত্রে পাওয়া চাঞ্চল্যকর খবর অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও মেঘালয় এবং ত্রিপুরায় স্বীকৃত জাতীয় রাজনৈতিক দল ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর আসল স্বত্বাধিকারী কারা— তা নিয়ে দু’পক্ষই আলাদাভাবে কমিশনে আবেদন জানিয়েছিল। দু’টি গোষ্ঠীই দাবি করেছে, তারাই মূল তৃণমূল এবং তাদেরই একমাত্র ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রার্থী দাঁড় করানোর বৈধ অধিকার রয়েছে। এই নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক দড়ি টানাটানির ফয়সালা করতেই তড়িঘড়ি শুনানির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব অশ্বনী কুমার মোহাল। দুই শিবিরকেই কড়া চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, শুনানির দিন নিজেদের পাঁচ জন করে শীর্ষ প্রতিনিধির দল নিয়ে হাজির থাকতে হবে।
কমিশনের প্রকাশিত সময়সূচি বলছে, শনিবারের লড়াই কতটা হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে! ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ঠিক ১১টায় প্রথম প্রবেশ ঘটবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের। তাঁদের সওয়াল ও জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার ঠিক এক ঘণ্টার ব্যবধানে, অর্থাৎ দুপুর ১২টায় কমিশনের মুখোমুখি করা হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে। কমিশন থেকে পাঠানো দুটি স্বতন্ত্র চিঠিতেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নাম থেকে শুরু করে তাঁদের ব্যবহৃত ভিআইপি গাড়ির বিবরণও আগেভাগে ইমেলের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠিয়ে দিতে হবে।
তবে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হলো এই মেগা শুনানির সময়কাল! কারণ, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের চূড়ান্ত শেষ দিন। তার ঠিক চার দিন আগে শনিবার দিল্লির এই শুনানির সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে গোটা রাজ্যের উপনির্বাচনী চিত্র! একই প্রতীক ও একই দলীয় নাম নিয়ে যদি দুই গোষ্ঠীই নিজেদের আলাদা প্রার্থী নামাতে চায়, তবে শেষপর্যন্ত ব্যালট পেপারে ‘জোড়াফুল’ কার পাশে যাবে— সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। শনিবারের বৈঠকের পর কমিশন কী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জানায়, নাকি এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের জেরে প্রতীক সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত বা ফ্রিজ হয়ে যায়, সেদিকেই নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে রয়েছে বাংলা।
