আজ বিধানসভায় পেশ হচ্ছে ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয় বিল, আসলে কী আছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় বিল’-এ ? আজ মুখ্যমন্ত্রীর ২০ মিনিটের বক্তব্যে মিলবে স্পষ্ট ব্যাখ্যা

breakingnews আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: বিধানসভায় আজ এমন একটি বিল নিয়ে সরগরম হতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি, যার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের উপর। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন সংক্রান্ত সংশোধনী বিল নিয়ে বিধানসভায় নিজেই প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার যাদবপুরে গেরুয়া সম্মান যাত্রার শেষে সভা থেকেই এই ঘোষণা করেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এই নতুন বিল ইতিমধ্যেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। বুধবার রাজ্যপালের সম্মতিও মিলেছে বলে দাবি তাঁর। এরপরই বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিলটি পেশ হওয়ার কথা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী এবং পরিষদীয় মন্ত্রীকে তিনি নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ার জন্য বলেছেন।

সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’-এ গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রয়েছে। বিদ্যমান আইনের ১৪এ ধারায় নতুন সংস্থান যোগ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করা সম্ভব হবে। তবে বদলি মানেই চাকরির পুরনো অধিকার হারানো নয়। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীর সার্ভিস সিনিয়রিটি বহাল থাকবে। এমনকী বদলির জন্য যে অতিরিক্ত খরচ হবে, সেটিও রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানা যাচ্ছে।

সরকারের যুক্তি, এর ফলে নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলি অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পরিষেবা পাবে। ঝাড়গ্রাম বা কোচবিহারের মতো জায়গায় গড়ে ওঠা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপকরা গেলে পঠনপাঠনের মান, প্রশাসনিক কাজ এবং পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গতি আসবে বলে মনে করছে সরকার। এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেও শিক্ষার মান বাড়ানো সম্ভব বলে সরকারের দাবি।

কিন্তু এখানেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিলটির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শিক্ষক সংগঠনের একাংশ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা JUTA-র অভিযোগ, এই ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিয়ম, পরিষেবার শর্ত এবং প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় কর্মীদের বদলি করার আগে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নেওয়া জরুরি। JUTA আরও প্রশ্ন তুলেছে, উচ্চশিক্ষায় এমন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বদলির ব্যবস্থা কতটা যুক্তিসঙ্গত এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসনের নীতির সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। একইসঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বা CUTA-ও বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের সভাপতি সনাতন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, বিধানসভায় বিল পাশের আগে শিক্ষক এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।