নিউজপোল ব্যুরো: ধামাকা ফের প্রকৃতির আকাশে! ২০২৬-এর শেষ তিন মাসে কি আবারও ঘূর্ণিঝড়ের দাপট দেখতে চলেছে উত্তর ভারত মহাসাগর? ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র একটি মরসুমি পূর্বাভাস ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। সেই পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় তিনটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বছরের শেষভাগে বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে বাড়তি নজর রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
ISRO-র Space Applications Centre-এর MOSDAC প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই এই পূর্বাভাস সামনে এসেছে। সেখানে বর্ষা-পরবর্তী মরশুমে উত্তর ভারত মহাসাগরে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের কার্যকলাপ নিয়ে একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ এখনই কোনও নির্দিষ্ট ঝড়ের নাম, তারিখ বা আঘাতের জায়গা ঘোষণা করা হয়নি। এটি মূলত আগামী কয়েক মাসে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাব্য পরিবেশ সম্পর্কে একটি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস। সম্ভাব্য তিনটি সিস্টেমের সম্মিলিত শক্তি অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের ঘূর্ণিঝড়গুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্য হতে পারে বলে ওই বিশ্লেষণে ইঙ্গিত রয়েছে। বিভিন্ন হিসাবের ভিত্তিতে শক্তির মাত্রা নিয়ে ৮৩ শতাংশ বেশি হওয়ার যে দাবি সামনে এসেছে, সেটিকে অবশ্য নির্দিষ্ট কোনও ঝড়ের ধ্বংসক্ষমতার সরাসরি পূর্বাভাস হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। কারণ আবহাওয়ার এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি মডেল মূলত সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য তৈরি হয়। সমুদ্রের তাপমাত্রা, বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরের পরিবর্তন, বাতাসের গতিবিধি এবং অতীতের জলবায়ু তথ্যের মতো একাধিক বিষয় বিশ্লেষণ করেই সম্ভাব্য প্রবণতা নির্ধারণ করা হয়।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর—এই সময়টা বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই বর্ষা বিদায়ের পরও আবহাওয়ার উপর নজর কমানোর সুযোগ নেই। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরে কোনও নিম্নচাপ তৈরি হলে তার শক্তি, গতিপথ এবং উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সম্ভাবনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শুধু ভারতীয় জলসীমাই নয়, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ চিন সাগরের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ওই অঞ্চলে তৈরি হওয়া কোনও ট্রপিক্যাল ডিস্টার্ব্যান্স বা টাইফুনের অবশিষ্ট অংশ পশ্চিম দিকে সরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পেরিয়ে আন্দামান সাগরের দিকে আসতে পারে। সেই কারণেই বিস্তৃত অঞ্চলের আবহাওয়ার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ জরুরি।
