৯০ চাকরিপ্রার্থীকে ঘিরে ৬৭ লক্ষ নেওয়ার অভিযোগ, সুমিত রায়ের নামে ফের প্রতারণার FIR

breakingnews অপরাধ আইন রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতির আঁচে ফের তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে সামনে এল ফের এক বিস্ফোরক অভিযোগ। ডেবরা কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গড়বেতা থানায় রুজু হলো এফআইআর। সরকারি চাকরির চটকদার লোভ দেখিয়ে ৯০ জন চাকরিপ্রার্থীর থেকে বিপুল টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগে মুখ পুড়ল সুমিত রায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ চক্রের। বাঁকুড়ার এক শাসকদল কর্মীর করা বিস্ফোরক এই অভিযোগে তোলপাড় জেলা থেকে রাজধানী শহর।

অভিযোগ সূত্রে খবর, প্রাথমিক শিক্ষার দোরগোড়ায় নয়, পুরো নিয়োগের ছকটি সাজানো হয়েছিল একেবারে আঁটঘাঁট বেঁধে। চাকরিপিছু রেট বাঁধা হয়েছিল কয়েক লক্ষ টাকা। প্রথম দফায় ৯০ জন প্রার্থীর থেকে নগদ ২২ লক্ষ টাকা তোলা হয়। এরপর দ্বিতীয় কিস্তিতে লেক রোডের একটি অভিজাত ক্যাফেতে ডেকে সুমিত রায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় আরও ৩২ লক্ষ টাকা। জালিয়াতির জাল কতটা গভীর তা পরিষ্কার হয় OMR শিট আর ভুয়ো ডাক্তারি পরীক্ষার নাটকে। শুধু টাকা তোলাই নয়, চাকরিপ্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় জাল নিয়োগপত্রের জেরক্স কপিও! শেষ দফায় আরও ১৩ লক্ষ টাকা পকেটে পুরে প্রতারণার ষোলকলা পূর্ণ করা হয় বলে দাবি।

মোট ৬৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে যে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল, তার আসল সত্যিটা প্রকাশ পেতেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে চাকরিপ্রার্থীদের। সরকারি দপ্তরে খতিয়ে দেখতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, হাত হাতে পাওয়া সেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার সম্পূর্ণ ভুয়ো ও জাল! প্রতারিতরা বকেয়া টাকা বা চাকরির সুরাহা চাইতে গেলে উল্টে জুটত মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর হুমকি। অবশেষে চরম সত্য সামনে আসায় গত জুন মাসে গড়বেতা থানায় সুমিত রায়, আশিক কাজি সহ মোট তিনজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বাঁকুড়ার ওই তৃণমূলকর্মী।