নিউজপোল ব্যুরো: বাংলার নারীশক্তিকে স্বাবলম্বী করতে এবং তাঁদের অধিকারকে এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে রাজ্য রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে মহাসমারোহে পালিত হলো ‘অন্নপূর্ণা দিবস’। আর সেই পুণ্যলগ্নের মঞ্চ থেকেই বাংলার মা-বোনেদের জন্য একগুচ্ছ স্বপ্নের মতো বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবার থেকে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার প্রতিটি নতুন বাড়ির আসল মালকিন হবেন পরিবারের মহিলারাই! পুরুষদের বদলে বাড়ির দলিল থাকবে মা-বোনেদের নামে। এর পাশাপাশি সরাসরি ১ কোটিরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এক লহমায় পৌঁছে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার টাকা, যা উৎসবের মরসুমের আগে রাজ্যজুড়ে এক বিপুল আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছে।
মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার এই মেগা কর্মসূচির খতিয়ান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে এদিনই রাজ্যের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাথা পিছু ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষের কাছাকাছি উপভোক্তার কাছে এই আর্থিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন। যাঁরা আবেদন করা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত কারণে এখনও টাকা পাননি, স্ক্রুটিনির পর আজ দিনভর তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর কাজ সচল থাকবে। শুধু তাই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি (ICDS) ও আশা কর্মীদের জন্য বড় উপহার দিয়ে তাঁদের মাসিক বেতন এক ধাক্কায় ৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সাথে প্রাণীমিত্রদের বেতনও ২ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে এবং যাঁদের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার কম, তাঁদের প্রত্যেককে অন্নপূর্ণা যোজনার ছাতার তলায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্র ও কন্যাসন্তানদের সুরক্ষাতেও শুভেন্দুর ঝুলিতে ছিল একের পর এক ধামাকা উপহার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ২০২৭ সাল থেকে ‘কন্যারত্ন দিবস’-এর মেধাবৃত্তি দ্বিগুণ করে ১ হাজার টাকার জায়গায় ২ হাজার টাকা করা হবে। উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যে সমস্ত মেয়েরা কলেজে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করতে যাবেন, তাঁদের উচ্চশিক্ষার খরচ টানতে মোট ৫০ হাজার টাকার এক বিশেষ প্যাকেজ দেবে রাজ্য সরকার। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে ১৭ হাজার টাকা করে এবং ফাইনাল ইয়ারে ১৬ হাজার টাকা সরাসরি ছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে। এই যুগান্তকারী প্রকল্প ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই সারা রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে।
একই সঙ্গে সমাজকে সুস্থ ও কলুষমুক্ত করতে এদিন মঞ্চ থেকে ‘নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ’ গড়ার এক জোরালো ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা বেআইনি মদের ঠেক ও নেশার কারবার রুখতে মা-বোনেদেরই ঝাঁটা হাতে সবার আগে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। নারী নিরাপত্তা, আবাসের অধিকার এবং শিক্ষার অগ্রগতি— এই ত্র্যহস্পর্শে শুভেন্দু অধিকারীর এই গুচ্ছ ঘোষণা আগামী দিনে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই।
