জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করল কমিশন, দুই শিবিরকে নতুন নাম বেছে নেওয়ার নির্দেশ, উপনির্বাচনের আগে কি বদলে গেল তৃণমূলের পরিচয় !

breakingnews আইন রাজনীতি রাজ্য
নিউজপোল ব্যুরো: ঘাসফুলের মালিকানা আসলে কার— ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ নাকি ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’? এই চরম দ্বন্দ্ব ও টানাপোড়েনের মাঝেই এবার আসরে নেমে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত শোনাল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ঠিক মুখে খোদ ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ দলটির নাম এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটিকে সম্পূর্ণভাবে ‘ফ্রিজ’ বা বাজেয়াপ্ত করে দিল কমিশন। যার অর্থ, আগামী ৬ অক্টোবরের প্রেস্টিজ ফাইটে দুই বিবদমান শিবিরের কেউই আর নিজেদের অফিশিয়াল ব্যানার কিংবা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। 
কমিশনের এই কড়া নির্দেশিকার পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে লড়াই করতেই পারবে না কোনও পক্ষ? আইন বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভোটে লড়ার রাস্তা বন্ধ হয়নি, তবে তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে গেল। নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুই শিবিরকেই যদি এই ৬ অক্টোবরের ভোটে অংশ নিতে হয়, তবে তাদের সম্পূর্ণ নতুন নামে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। শুধু তাই নয়, জোড়াফুলের আশা ত্যাগ করে কমিশনের ‘ফ্রি সিম্বল’ বা মুক্ত প্রতীকের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ নতুন কোনও নির্বাচনী প্রতীক বেছে নিয়ে ময়দানে নামতে হবে। ফলে, রাতারাতি নতুন নাম আর নতুন প্রতীককে ভোটারদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ল কালীঘাট ও ঋতব্রত— উভয় শিবিরই।
স্মর্তব্য, গত কয়েক মাস ধরেই তৃণমূলের অন্দরে প্রতীক এবং দলের আসল কর্তৃত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চরম সীমায় পৌঁছেছিল। উভয় পক্ষই নিজেদের আসল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ বলে দাবি করে কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্বের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে কমিশন কোনও এক পক্ষকে স্বীকৃতি না দিয়ে বিতর্কিত প্রতীকটিকেই সাময়িকভাবে অকেজো করে দেওয়ার রাস্তায় হাঁটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক হারানোর এই ধাক্কা সবচেয়ে বেশি চোট দেবে কালীঘাট শিবিরকে, কারণ কয়েক দশক ধরে গ্রামীণ বাংলার মানুষের মনে গেঁথে থাকা ‘জোড়াফুল’ চিহ্নটি এক লহমায় ব্যালট বা ইভিএম থেকে মুছে গেল।
৬ অক্টোবরের এই মেগা ফাইটের আগে নির্বাচন কমিশনের এই চরম পদক্ষেপ যে বাংলার শাসক ও বিরোধী শিবিরের রণকৌশলকে পুরোপুরি ওলটপালট করে দিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন দেখার, প্রতীক ও নাম খুইয়ে এই দুই মহাশক্তিধর শিবির কোন নতুন পরিচয়ে এবং কোন নতুন চিহ্নে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের মাটি কামড়ে লড়াইয়ে ফেরে