নিউজপোল ব্যুরো: নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দরবারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’ ও ঐতিহ্যবাহী নাম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নতুন নাম ও প্রতীক বরাদ্দকরণের নির্দেশকে সম্পূর্ণ ‘একতরফা ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে দায়ের হলো স্পেশাল লিভ পিটিশন। রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা এই ঘটনায় এখন দিল্লির আইনি ময়দানেই নির্ধারণ হতে চলেছে ঘাসফুল শিবিরের মূল ভবিষ্যৎ।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, উপনির্বাচনের আগে ‘কালীঘাট’ বা ‘ঋতব্রত’—কোনো পক্ষই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস নাম কিংবা জোড়াফুল চিহ্ন ব্যবহার করতে পারবে না।বদলে দুই শিবিরকেই বিকল্প নাম ও চিহ্ন বেছে নিতে বলা হয়। কমিশনের এই নির্দেশিকায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুগামীরা। শীর্ষ আদালতের ওয়েবসাইট সূত্রের খবর, শুক্রবার বিকেলে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের সাংবাদিক বৈঠকের আগেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হয় কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে। পিটিশনে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় তাঁদের যুক্তি বা লিখিত বক্তব্য কোনোভাবেই যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। নির্বাচন কমিশনের এই স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং আইনের নীতিবিরুদ্ধ। উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তৃণমূলের আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আশা প্রকাশ করেছিলেন, কমিশনের রায় তাঁদের অনুকূলেই আসবে। কিন্তু আকস্মিকভাবে দলের নাম ও প্রতীক হাতছাড়া হওয়ায় এই আইনি যুদ্ধে নামা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না কালীঘাট শিবিরের সামনে।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে নথিভুক্ত হয় এই আবেদনপত্র। সুপ্রিম কোর্ট কমিশনকে কী নির্দেশ দেয় এবং এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি হয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের ঢিলছোড়া দূরত্বে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ বাংলা রাজনীতির শেষ মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
