ব্যাংকক থেকে সোনার চালান কলকাতায়, কিন্তু বিমানবন্দর পেরোনোর আগেই সব পরিকল্পনা ভেস্তে! রবিভূষণের কাছ থেকে উদ্ধার ৭০ গ্রামের বেশি সোনা—তদন্তে আন্তর্জাতিক চক্রের খোঁজ

breakingnews অপরাধ কলকাতা শহর

নিউজপোল ব্যুরো: ব্যাংকক থেকে কলকাতায় আসা বিমানের যাত্রীর উপর আগে থেকেই ছিল নজর। বিমানবন্দরের বাইরে পা রাখলেই তাকে আটক করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন পুলিশকর্মীরা। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমনই এক অভিযানে ধরা পড়লেন রবিভূষণ তিওয়ারি নামে এক যাত্রী। তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৭০ গ্রামের বেশি সোনা। ঘটনায় সোনা পাচারের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ব্যাংকক থেকে কলকাতায় সোনা পাচারের একটি সম্ভাব্য রুট নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তথ্য সংগ্রহ করছিলেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রেই রবিভূষণের কলকাতায় আসার খবর আগে থেকে পুলিশের হাতে পৌঁছে যায়। NSCBI থানার তদন্তকারীরা বিমানবন্দর থেকে বেরোনোর পথেই নজরদারি শুরু করেন। বিমানবন্দর চত্বর ছাড়ার সময় তাঁকে আটক করে শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। একাধিক দফায় প্রশ্ন করার পর তাঁর কাছ থেকে সোনার হদিশ মেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, গত সোমবারও ব্যাংকক থেকে কলকাতায় আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে প্রায় ৩০০ গ্রাম সোনা উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তদন্তের সময়ই রবিভূষণের নাম সামনে আসে বলে জানা গিয়েছে। আরও জানা যায়, একই বিমানেই রবিভূষণের কলকাতায় আসার কথা ছিল। এরপর আর কোনও ঝুঁকি না নিয়ে বিমানবন্দরে আগেভাগেই নজরদারি বাড়িয়ে দেয় পুলিশ।

রবিভূষণকে আটক করার পরই তদন্তকারীদের সামনে আসে পাচারের সম্ভাব্য বড় নেটওয়ার্কের বিষয়টি। পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং ব্যাংকক থেকে নিয়মিতভাবে একই পদ্ধতিতে কলকাতায় সোনা আনার একটি চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে শুল্ক দফতরের কয়েকজন আধিকারিকের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, বিমানবন্দরের ভিতরের কোনও স্তর থেকে পাচারকারীরা সুবিধা পেয়ে থাকলে তার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির যোগাযোগ থাকতে পারে। যদিও এই যোগসূত্রের বিষয়টি এখনও তদন্তের আওতায় এবং অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়ার অপেক্ষায়।

রবিভূষণকে জেরা করে পাচারের মূল মাথাদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে আগের ৩০০ গ্রামের সোনা উদ্ধারের ঘটনার সঙ্গে বর্তমান মামলার যোগসূত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে