নিউজপোল ব্যুরো: টানা বৃষ্টির পর রাতের অন্ধকারে হঠাৎ নেমে এল পাহাড়ের মাটি। ভয়াবহ ধসে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রামে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিস্থিতি। ইয়ুকসাম-তাশিডিং বিধানসভা এলাকার এই গ্রামে ধসের জেরে একাধিক বাড়ি এবং সরকারি আবাসন মাটির তলায় চাপা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাতের এই ঘটনায় বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির ছবি সামনে এলেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
একটানা বৃষ্টির পর পাহাড়ি এলাকায় মাটি আলগা হয়ে যাওয়ার ফলেই এই ধস নেমে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে আচমকা পাহাড়ের একটা বড় অংশ নেমে আসায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রিম্বি এলাকায়। ধসের জেরে বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি আবাসনগুলিও এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রেহাই পায়নি। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার খবর সামনে আসার পরই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি রিম্বির ধসের ঘটনা নিয়ে বার্তা দিয়েছেন। পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের তরফে কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
এই ধসের ঘটনায় ফের সামনে এসেছে সিকিমের পাহাড়ি এলাকার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি। বিশেষ করে হিমবাহ হ্রদগুলিকে ঘিরে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। সিকিমে এমন ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহ হ্রদ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা যায়। জলস্তরের আচমকা পরিবর্তন কিংবা হিমবাহ হ্রদ থেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশাসনের নজরদারিও চলছে।
ঝুঁকি বোঝার জন্য বিভিন্ন এলাকায় সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া কেন্দ্র এবং অন্যান্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন ও জলস্তরের ওঠানামা দ্রুত চিহ্নিত করার চেষ্টা চালানো হলেও প্রবল বৃষ্টির মধ্যে রিম্বির এই ধস নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।a
