অতি গভীর নিম্নচাপের দাপটে ওড়িশার ছয় জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতি, গাছ পড়ে রাস্তা বন্ধ, জলে ডুবে গ্রাম, ধসে আটকাল রেলপথ

breakingnews oftbeat জেলা

নিউজপোল ব্যুরো: ঘূর্ণিঝড়ের মতো শক্তিশালী রূপ নেয়নি, কিন্তু স্থলভাগে ঢোকার পরও অতি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্যোগের ছবি সামনে এসেছে। প্রবল হাওয়া ও বৃষ্টির দাপটে বহু জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে, জল জমেছে রাস্তায়, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। কোথাও আবার ভূমিধসের জেরে রেললাইন অবরুদ্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় আবহাওয়া দফতর বা IMD জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কলিঙ্গপত্তনমের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করে সিস্টেমটি। বিশাখাপত্তনম এবং ওড়িশার গোপালপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। স্থলভাগের উপর দিয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোতে থাকায় ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়েছে অতি গভীর নিম্নচাপ। পরে সেটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টা সিস্টেমটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর আরও দুর্বল হতে পারে। শুরু থেকেই আবহাওয়া দফতর জানিয়েছিল, এই সিস্টেমের ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি না হলেও ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে একাধিক এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।

ওড়িশায় পরিস্থিতির মোকাবিলায় বড়সড় উদ্ধার ও সরানোর কাজ চালানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিপজ্জনক এলাকা থেকে ৮,০৮২ জনকে ২০৩টি ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গঞ্জাম, গজপতি, মালকানগিরি, কোরাপুট, রায়গড়া এবং নবরঙ্গপুর—দক্ষিণ ওড়িশার এই ছয় জেলায় দুর্যোগের প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে বেশ কিছু স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে।প্রবল বৃষ্টির জেরে মালিগুড়া ও ছাতারিপুট স্টেশনের মাঝের রেলপথে ভূমিধস নেমে যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে জল ঢোকার পাশাপাশি রাস্তার উপর গাছ পড়ে যান চলাচলও বিঘ্নিত হয়েছে। বহু জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন কার্যত থমকে যায়।

এই সিস্টেমের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরে ধসের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই DVC, মাইথন এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার বিষয়টিও নতুন করে নজরে এসেছে।