নিউজপোল ব্যুরো: নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, ২০১৬ সাল থেকে অভিষেক Z+ নিরাপত্তা পেয়ে আসছেন। কিন্তু ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁট করা হয়েছে। এমনকি তাঁর বাড়ির সামনে মোতায়েন থাকা অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এই বিষয়েই দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আগামী ৬ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হবে।
আদালতে অভিষেকের আইনজীবীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় ছিলেন তিনি। আইনজীবীদের দাবি, উপযুক্ত নিরাপত্তা মূল্যায়নের পরই তাঁকে Z+ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর পরিস্থিতি বদলেছে। এরপর ধাপে ধাপে তাঁর নিরাপত্তা কমানো হয়েছে এবং বাড়ির সামনেও আগের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু নিরাপত্তা কমার অভিযোগই নয়, আদালতে অভিষেকের আইনজীবীরা তাঁর উপর একাধিক হামলার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁদের দাবি, ৪ মে-র পর থেকে এখনও পর্যন্ত চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সাংসদ। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত মামলাটি শোনার আবেদন জানানো হয়।
তবে নিরাপত্তা প্রত্যাহার নিয়ে এর আগে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছিল। মে মাসে রাজ্যের তৎকালীন ডিজিপি জানিয়েছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই Z+ নিরাপত্তার আওতায় রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, Z+ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়নি; বরং নিরাপত্তা প্রোটোকলের বাইরে থাকা কিছু অতিরিক্ত ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যেই এবার বিষয়টি পৌঁছেছে হাইকোর্টে। একদিকে অভিষেকের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা কমানোর অভিযোগ, অন্যদিকে সরকারি স্তরে Z+ নিরাপত্তা বহাল থাকার আগের দাবি—দুই দিকই এখন আদালতের সামনে। ফলে ৬ অক্টোবরের শুনানিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কী বক্তব্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনের।
