নদীর জল বাড়তেই ঘাটালে ভয়াবহ বন্যার ছবি! ডুবে গেল আমন ধানের ক্ষেত, বন্যা পরিস্থিতিতে এবার চরম সর্বনাশের মুখে হাজার হাজার কৃষক!

breakingnews oftbeat জেলা

নিউজপোল ব্যুরো: নদীর জল যত বাড়ছে, ততই কঠিন হয়ে উঠছে চন্দ্রকোনা ও ঘাটালের পরিস্থিতি। একের পর এক এলাকা জলের তলায় চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। মাঠের পর মাঠ জলে ডুবে থাকায় শুধু চলতি ফসলই নয়, পরের চাষ নিয়েও তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। অনেক কৃষক ভেবেছিলেন, আলু চাষে যে ক্ষতি হয়েছে, আমন ধান কিছুটা সেই ধাক্কা সামলে দেবে। কিন্তু বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে সেই আশাও ফিকে হয়ে আসছে।

এবারের আলু মরসুম অনেক কৃষকের কাছেই ভালো যায়নি। চাষের খরচের তুলনায় দাম না মেলায় বহু চাষি লোকসানে পড়েছেন। লাভ তো দূরের কথা, অনেকে খরচের টাকাও তুলতে পারেননি। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে আলুচাষিকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে এসেছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমন ধানের দিকে তাকিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু এখন ধানের জমিও জলের তলায় চলে যাওয়ায় নতুন করে চিন্তা বাড়ছে। চন্দ্রকোনা এলাকায় শিলাবতী ও কেঠিয়া নদীর জল বেড়ে গিয়ে একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জানা গিয়েছে, দুই ব্লকের মোট সাতটি পঞ্চায়েত এলাকায় বন্যার প্রভাব পড়েছে।

শুধু ধান নয়, এই সব এলাকায় আনাজ চাষও বড় ধাক্কা খেয়েছে। কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টির পর জমিতে জল দাঁড়িয়েছিল। তার পর নদীর জল ঢুকে পড়ায় অনেক জায়গায় পুরো জমিই ডুবে গিয়েছে। ফলে লঙ্কা, বেগুন, পটল-সহ বিভিন্ন আনাজের জমিতে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। জল দ্রুত না নামলে এই ফসল বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, নদীর জল কমলেও মাঠ থেকে একসঙ্গে জল বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে জলমগ্ন জমি শুকোতে সময় লাগবে। ততদিনে কতটা ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে চিন্তায়  কৃষকেরা।