নিউজপোল ব্যুরো: প্রশান্ত মহাসাগর যেন একসঙ্গে একাধিক ঝড়ের ঘূর্ণিতে অশান্ত। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে স্যাটেলাইট ছবিতে একই সময়ে তিনটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় দেখা গিয়েছিল—হারিকেন পোলো, ওডালিস এবং নোলো। এই ছবি সামনে আসার পর ফের আলোচনায় এসেছে শক্তিশালী এল নিনো। NOAA-র হিসাব বলছে, ২০২৬ সালের শরৎ ও শীতকালে খুব শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি। প্রশান্ত মহাসাগরে এই ঝড়ের সক্রিয়তা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। হারিকেন পোলো অল্প সময়ের মধ্যেই ভয়াবহ শক্তি বাড়িয়ে ক্যাটাগরি ৫-এ পৌঁছেছিল। মার্কিন ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর পোলোর সর্বোচ্চ শক্তি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার। পরে শক্তি কিছুটা কমলেও ঝড়টি দীর্ঘ সময় শক্তিশালী অবস্থায় ছিল এবং মেক্সিকোর উপকূলে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার প্রভাব পড়ে।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর নোলো ক্যাটাগরি ৪ হারিকেনের শক্তি নিয়ে হাওয়াই থেকে অনেকটা দূরে সরে যাচ্ছিল। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় একই সময়ে একাধিক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এই অস্বাভাবিক ঝড়ের ছবির সঙ্গে এল নিনোর সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা চলছে। এল নিনো তৈরি হয় যখন মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রের জল স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এই উষ্ণ জল এবং তার সঙ্গে যুক্ত বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন প্রশান্ত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড় তৈরির পরিবেশকে আরও অনুকূল করে তুলতে পারে। NASA-ও জানিয়েছে, এল নিনো সাধারণত পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সক্রিয়তা বাড়াতে পারে।
NOAA-র সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাস আরও গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থার মতে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী এল নিনো হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ। সমুদ্রের পূর্ব নিরক্ষীয় অংশে জলের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ইতিমধ্যেই ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা এটাও স্পষ্ট করেছেন, এল নিনোর প্রভাব সব জায়গায় একই রকম হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
